আবহাওয়া ডেস্ক
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৭টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আজ রবিবার (৭ জুন) আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দুপুর ১টা পর্যন্ত দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ভোর ৫টা থেকে শুরু হওয়া এই সতর্কবার্তা দুপুর ১টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময়ে নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সতর্কতার সাথে এবং তীরের কাছাকাছি থেকে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা।
সিনপটিক অবস্থার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর সমান্তরালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের কক্সবাজার উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হওয়ার জন্য পরিস্থিতি অনুকূলে রয়েছে। মৌসুমি বায়ুর এই সক্রিয়তার কারণে দেশের বিভিন্ন অংশে আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকায় ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আজ সকালে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ। বৃষ্টিপাতের কারণে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। জুন মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে মৌসুমি বায়ুর বিস্তার বৃদ্ধির ফলে দেশজুড়ে চলমান ভ্যাপসা গরম ও মৃদু তাপপ্রবাহের তীব্রতা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে। তবে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের ফলে সাময়িক জলাবদ্ধতা কিংবা নদীর পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।