বিশেষ প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আলোচনায় দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ও অব্যাহত কূটনৈতিক ও নৈতিক সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ফিলিস্তিনিদের জন্য ন্যায়সংগত ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন। উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনের জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের লড়াইয়ে বাংলাদেশ সবসময় পাশে থাকবে।
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের এই দীর্ঘদিনের অকুণ্ঠ ও নিঃস্বার্থ সমর্থনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক সংকটের এই সময়ে বাংলাদেশের মতো বন্ধুভাবাপন্ন দেশের অবস্থান ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
রাষ্ট্রদূত দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি নতুন নতুন ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ (পিপল-টু-পিপল কন্টাক্ট) বৃদ্ধির মাধ্যমে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি ফিলিস্তিন সরকারের আগ্রহের কথা জানান। বাংলাদেশ প্রতিবছর ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিয়ে আসছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করছে বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল মনে করছেন।
ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বিশ্বমঞ্চে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় থেকেই বাংলাদেশ ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে চিকিৎসা দল ও সাহায্য পাঠিয়েছিল। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ধরনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক দুই দেশের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বেগবান করবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থান এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির যে প্রস্তাব রাষ্ট্রদূত দিয়েছেন, তা আগামী দিনগুলোতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।