অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ছয়টি দেশে লেভোথাইরক্সিন সোডিয়াম ট্যাবলেট রপ্তানি ও বাজারজাতকরণের অনুমোদন পেয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রেনাটা পিএলসি। দেশগুলো হলো— আয়ারল্যান্ড, জার্মানি, ইটালি, পোল্যান্ড, পর্তুগাল ও মালটা। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি ওষুধের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয় সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এই অনুমোদনকে একটি বড় ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিকেন্দ্রীকৃত অনুমোদন প্রক্রিয়া বা ডিসেন্ট্রালাইজড প্রোসিডিউর (ডিসিপি)-এর আওতায় রেনাটা এই বাজারজাতকরণের অনুমতি লাভ করেছে। ইউরোপের উন্নত দেশগুলোতে থাইরয়েডের ঘাটতিজনিত বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় এই লেভোথাইরক্সিন সোডিয়াম ট্যাবলেটটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস’ (ইইউ জিএমপি) অনুমোদিত অত্যাধুনিক ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন উৎপাদন কেন্দ্রে এই ওষুধ তৈরি করা হবে।
রেনাটা পিএলসি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, নতুন অনুমোদনপ্রাপ্ত ইউরোপীয় বাজারগুলোতে থাইরয়েড হরমোনের সমস্যায় ভোগা রোগীদের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য ওষুধের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই বাণিজ্যিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববাজারের কঠোর মানদণ্ড ও আইনি প্রক্রিয়া পরিপালন করেই এই ছয়টি দেশে প্রবেশের ছাড়পত্র মিলেছে। এর ফলে ইউরোপের দেশগুলোতে বাংলাদেশি মানসম্মত ওষুধের একটি বড় বাজার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হলো।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের একাধিক প্রভাবশালী দেশে একযোগে এই অনুমোদন পাওয়া আন্তর্জাতিক বাজারে রেনাটার উপস্থিতি ও ভাবমূর্তি আরও দৃঢ় করবে। বাংলাদেশের সামগ্রিক ওষুধ শিল্পের বৈশ্বিক রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে এই ঘটনা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বৈশ্বিক বাজারে কড়া প্রতিযোগিতা সত্ত্বে ইউরোপীয় দেশগুলোর এই স্বীকৃতি দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের সক্ষমতারই প্রমাণ দেয়, যা আগামী দিনে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।