বাংলাদেশ ডেস্ক
‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি বিশেষ মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামকে এই নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গঠিত এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সরকারের চারজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীকে। তারা হলেন— স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এই কমিটি প্রস্তাবিত আইনের সার্বিক দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনের সুপারিশ তৈরি করবে।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান সময়ের সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলা, ডিজিটাল অপরাধের ধরন পরিবর্তন এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদে বিদ্যমান আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ৫ সদস্যের কমিটি খসড়া আইনের ধারা উপধারাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করবে। অংশীজনদের উদ্বেগ নিরসন এবং আইনটির অপপ্রয়োগ রোধে প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ধারা সংযোজনের বিষয়েও কমিটি সুপারিশ প্রদান করতে পারবে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের পূর্বে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এনে বিচার-বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার রোধ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি এই পর্যালোচনায় প্রাধান্য পাবে। কমিটি তাদের কার্যপরিধি অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন ও সুপারিশ সরকারের নিকট জমা দেবে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের সাইবার সুরক্ষাকে আরও সুসংহত এবং আন্তর্জাতিক মানের করতে এই সংশোধনীর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সাথে স্বরাষ্ট্র, আইন, তথ্যপ্রযুক্তি, পররাষ্ট্র এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি খসড়া আইনটিকে একটি সামগ্রিক ও যুগোপযোগী রূপ দিতে সক্ষম হবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে খসড়াটি পরবর্তীতে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে উত্থাপন করা হবে এবং এরপর তা পাসের জন্য জাতীয় সংসদে বিল আকারে পেশ করা হবে।