সারাদেশ ডেস্ক
বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ হাজার ৫৮০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এই সময় সেতুটিতে মোট ৩ কোটি ১৪ লাখ ২৭ হাজার ২৫০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে বলে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
শনিবার (৬ জুন) যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান এই রুটে যানবাহনের চাপ বাড়ার কারণে টোল আদায়ের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ১২টা থেকে শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে মোট ৪০ হাজার ৫৮০টি যানবাহন পারাপার হয়। এই যান চলাচলের হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উল্লিখিত সময়ে দেশের উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের চেয়ে ঢাকাগামী যানবাহনের সংখ্যা ও টোল আদায়ের পরিমাণ বেশি ছিল।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গগামী ১৫ হাজার ৪৪৮টি যানবাহন সেতু পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা। অন্যদিকে, একই সময়ে ঢাকা অভিমুখে ধাবিত ২৫ হাজার ১৩২টি যানবাহন সেতু অতিক্রম করেছে, যা থেকে সংগৃহীত টোলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৬৮ হাজার ৪৫০ টাকা।
সেতু এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, যানবাহনের এই বিপুল চাপ সামাল দিতে এবং মহাসড়কে যানজট এড়াতে সেতু কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে। বর্তমানে যমুনা সেতুর দুই প্রান্তের প্রবেশদ্বারে ৯টি করে মোট ১৮টি বুথের মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে টোল আদায় করা হচ্ছে। এর ফলে চালক ও যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ ও ভারী যানবাহনের পাশাপাশি দুই চাকার যানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় মোটরসাইকেল পারাপারের জন্য দুই পাশে আলাদা করে দুটি করে বুথ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর ফলে মহাসড়কের মূল লেনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যানবাহনগুলো সেতু পার হতে পারছে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যমুনা সেতু দিয়ে রেকর্ডসংখ্যক যানবাহন পারাপার এবং বিপুল পরিমাণ টোল আদায় দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সচলতা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে সপ্তাহান্তের ছুটির দিনগুলোতে এবং বিভিন্ন উৎসবের আগে এই রুটে যানবাহনের চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। যমুনা সেতু ও এর সংযোগ সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে টোল প্লাজার আধুনিকায়ন এবং বুথের সংখ্যা বৃদ্ধি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেতু কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রয়াসে মহাসড়কে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হচ্ছে বলে চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।