খেলাধূলা ডেস্ক
ভারতের মাটিতে দীর্ঘ ১৫ বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। ঘরের মাঠে সফরকারী আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচে ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম একাদশে জায়গা হয়নি অভিজ্ঞ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং রবীন্দ্র জাদেজার। সাম্প্রতিক সময়ের ক্রিকেটে এই দুই তারকা স্পিনারের যুগপৎ অনুপস্থিতিকে ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটের একটি যুগের পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এর আগে সর্বশেষ ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নাগপুর টেস্টের একাদশে এই দুই স্পিনারের কেউই ছিলেন না। এরপর থেকে ঘরের মাঠে খেলা টানা ৬৯টি টেস্ট ম্যাচের প্রতিটিতেই রবিচন্দ্রন অশ্বিন কিংবা রবীন্দ্র জাদেজার অন্তত একজন অবশ্যই একাদশের দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে ভারতের মাটিতে স্পিন বিভাগের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন তারা। তবে সম্প্রতি অশ্বিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে স্থায়ীভাবে অবসর গ্রহণ করেছেন এবং রবীন্দ্র জাদেজাকে বর্তমান ম্যাচটিতে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
মুল্লানপুরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই টেস্ট ম্যাচটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটেছে তরুণ স্পিনার মানব সুথারের। দলে বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে আরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কুলদীপ যাদব ও ওয়াশিংটন সুন্দরকে। ভারতীয় ক্রিকেট দলের বর্তমান প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর এই ম্যাচটিকে ভবিষ্যৎ স্কোয়াড গড়ে তোলার একটি বড় সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। যেহেতু আফগানিস্তানের বিপক্ষের এই একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়, তাই নতুন ও তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরখ করে নেওয়ার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে ভারত। লর্ডসে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনাল ম্যাচে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করতে হলে অধিনায়ক শুভমান গিলের নেতৃত্বাধীন দলটিকে আগামী দিনগুলোতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পা বাড়াতে হবে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে ভারতের সামনে এখনও ৯টি টেস্ট ম্যাচ বাকি রয়েছে। এর মধ্যে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি এবং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাঁচ ম্যাচের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি সিরিজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, অশ্বিনের অবসর এবং জাদেজার অনুপস্থিতিতে কুলদীপ ও সুথারদের মতো তরুণদের পারফরম্যান্স ভারতের দীর্ঘমেয়াদি টেস্ট পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্পিন-সহায়ক ভারতীয় পিচে নতুন প্রজন্মের স্পিনাররা কতটা সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামীতে দলটির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের সমীকরণ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই ম্যাচটি তাই কেবল একটি একক টেস্ট নয়, বরং ভারতীয় ক্রিকেটের স্পিন বিভাগের রূপান্তরের এক বড় পরীক্ষা।