ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন আগামীকাল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে ২৫টি পরিচালক পদের মধ্যে ইতোমধ্যে ১০টি পদের বিপরীতে প্রার্থীরা নির্ধারিত হয়েছেন। বাকি ১৫টি পরিচালক পদে দেশের ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর একই দিনে নবনির্বাচিত পরিচালকদের ভোটের মাধ্যমে বোর্ডের নতুন সভাপতি নির্বাচন করা হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত ২৫টি পরিচালক পদের মধ্যে আটজন প্রার্থী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই নির্বাচিত হয়েছেন এবং বাকি দুটি পদে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে দুইজনকে মনোনীত করা হবে। ক্যাটাগরি-১ এর অধীনে ফেনী জেলা ক্রীড়া সমিতির শরিফুল ইসলাম অপু মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ায় চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু এবং মঈন উদ্দিন চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেন। এছাড়া ঢাকা বিভাগ থেকে সৈয়দ বিন জামান ও এস.এম. আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যান্য বিভাগীয় অঞ্চলের মধ্যে রাজশাহী থেকে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, রংপুর থেকে মির্জা ফয়সাল আমিন, সিলেট থেকে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং ক্যাটাগরি-৩ থেকে সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বোর্ডের পরিচালক হিসেবে স্থান নিশ্চিত করেছেন।
বোর্ডের আঞ্চলিক ও ক্লাব ক্যাটাগরির অবশিষ্ট আসনগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। আঞ্চলিক পর্যায়ে খুলনা ও বরিশাল বিভাগে পদের বিপরীতে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই বিভাগ থেকে মোট তিনজন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। খুলনা বিভাগের দুটি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোহাম্মদ শফিকুল আলম, শান্তনু ইসলাম ও মোহাম্মদ আবদুস সালাম। অন্যদিকে বরিশাল বিভাগের একমাত্র পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও মোহাম্মদ মুনতাসির আলম চৌধুরী।
সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে ঢাকার ক্লাব ক্যাটাগরিতে। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের মোহাম্মদ লুৎফর রহমান এবং ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টস ক্লাবের মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান শেষ মুহূর্তে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিলেও এই ক্যাটাগরিতে প্রার্থীর সংখ্যা ১৬ জন। ক্লাব পর্যায়ের মোট ১২টি পরিচালক পদের বিপরীতে এই প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা হলেন— ফাহিম সিনহা, মাসুদুজ্জামান, আসিফ রাব্বানী, ফয়জুর রহমান, ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক, তামিম ইকবাল, মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বাবু, অধ্যাপক ড. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, শানিয়ান তানীম, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, সৈয়দ বোরহানুল হোসেন, শফিক আহমেদ সালাম এবং অবসরপ্রাপ্ত মেজর ইমরোজ আহমেদ।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকার একটি স্থানীয় মিলনায়তনে ১৬টি ক্লাব বিভাগের প্রার্থীরা ভোটার ও কাউন্সিলরদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা পর্ষদের উন্নয়নে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং সমর্থন কামনা করেন। ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় গতিশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উক্ত মতবিনিময় সভায় বিসিবির অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে থাকা সভাপতি তামিম ইকবাল প্রার্থীদের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বৃহত্তর কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রার্থীদের মধ্যে ক্রীড়াবিদ, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘরানার প্রতিনিধি থাকলেও বোর্ডে প্রবেশের পর সবার একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত ক্রিকেট খেলাটির নিঃস্বার্থ সেবা করা। একই সঙ্গে ক্রিকেট প্রশাসনে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণ ও আধুনিক মানসিকতাসম্পন্ন নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটানোর ওপর জোর দেন তিনি। দেশের ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বোর্ডে দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা আসবে, যা দেশের সামগ্রিক ক্রিকেট অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।