রাজধানী ডেস্ক
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিরাজমান সংকট ও দাম সমন্বয়ের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ-জ্বালানির বর্তমান পরিস্থিতি এবং গ্রাহক পর্যায়ে এর প্রভাব নিয়ে সরকারের নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। শনিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) শুনানির মাধ্যমে সামগ্রিক বিদ্যুতের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হলেও সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় একটি বড় অংশের গ্রাহককে এই মূল্যবৃদ্ধির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এর ফলে দেশের নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির গ্রাহকেরা সরাসরি স্বস্তি পাবেন এবং তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে না।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র মতে, দেশের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৬৫ শতাংশই এই ক্যাটাগরির আওতাভুক্ত। অর্থাৎ, দেশের অর্ধেকেরও বেশি গ্রাহকের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের দাম বাড়ছে না এবং তাঁদের আগের দামই বহাল থাকবে। বৃহৎ এই জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে একটি কল্যাণমুখী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
একই সংবাদ সম্মেলনে বিগত সরকারের আমলের অর্থনৈতিক অনিয়ম ও নীতিনির্ধারণী ত্রুটির বিষয়টি উঠে আসে। বর্তমান নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিগত সরকারের সময়কার দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংসহ নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব ও বোঝা বর্তমান প্রশাসনকে বহন করতে হচ্ছে। পূর্ববর্তী সময়ে নেওয়া বেশ কিছু ভ্রান্ত ও আমদানিনির্ভর নীতির কারণে দেশের জ্বালানি খাত বর্তমানে বড় ধরনের কাঠামোগত সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রশাসন দুর্নীতির চক্র থেকে দেশকে বের করে আনার পাশাপাশি উৎপাদনমুখী নীতি গ্রহণ করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পূর্ববর্তী সময়ে আমদানিনির্ভর নীতিকে মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব না দিয়ে যদি দেশীয় উৎপাদনমুখী নীতি ও নিজস্ব খনিজ সম্পদ উত্তোলনে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতো, তাহলে আজ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এমন সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হতো না। সংকট কাটিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলেও জানানো হয়।