নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নেওয়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনতে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান শুরু করেছে ডিএসসিসি। এই কর্মসূচির আওতায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সক্রিয় ভূমিকার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এই বিশেষ অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির সূচনা করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম।
উদ্বোধনী সমাবেশে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম জানান, ডিএসসিসির আওতাধীন সবকটি ওয়ার্ডে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপের ভিত্তিতে এই ২৮টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করা জরুরি। ডেঙ্গু প্রতিরোধ কেবল কোনো একক সংস্থার পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডেঙ্গু নির্মূলে ৫০ শতাংশ দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের এবং বাকি ৫০ শতাংশ দায়িত্ব সাধারণ জনগণের। উভয় পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে ডেঙ্গু মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে দুই মাস আগেই সম্ভাব্য ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে মশক নিধন কর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বিশেষ দল নিয়োজিত করা হয়েছে, যারা লার্ভিসাইডিংসহ মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে।
অনুষ্ঠানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সচেতনতার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। প্রশাসক আবদুস সালাম ঢাকা শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত নিরলস কাজ করে সকালের মধ্যে শহর আবর্জনামুক্ত করেন। কিন্তু দিনের বিভিন্ন সময়ে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে সড়কগুলো পুনরায় নোংরা হয়ে পড়ে। একটি নির্দিষ্ট সময়ে বর্জ্য অপসারণের পর ২৪ ঘণ্টা ধরে আবর্জনা পরিষ্কার করা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে দুরূহ। তাই যত্রতত্র ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকতে তিনি নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে। বিশেষ করে নির্মাণাধীন ভবন, বাসাবাড়ির ছাদবাগান, ফুলের টব, টায়ার এবং ডাবের খোসায় জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। ডিএসসিসির এই তিন মাসব্যাপী বিশেষ অভিযান এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নাগরিকদের অসচেতনতা এবং বাসাবাড়িতে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার না করলে এই অভিযানের পূর্ণ সুফল পাওয়া যাবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ডিএসসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী তিন মাস এই বিশেষ চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিকদের সতর্ক করার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। একই সাথে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং কার্যক্রম জোরদার করা হবে।