রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর বিমানবন্দর থানা এলাকার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সংলগ্ন একটি পেট্রোল পাম্পের সামনে দ্রুতগামী অজ্ঞাত এক গাড়ির ধাক্কায় আব্দুল হাই (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আব্দুল হাই একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার উত্তর নৌপারা গ্রামের মৃত হালিম উদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকার বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকাতেই বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে কর্মস্থল শেষে বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে রাস্তা পার হচ্ছিলেন আব্দুল হাই। এ সময় একটি দ্রুতগামী অজ্ঞাত যানবাহন তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। ধাক্কায় তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় ও শরীরে মারাত্মক আঘাত পান। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় পথচারীরা তাকে রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মধ্যরাতে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের শ্যালক রাসেল গণমাধ্যমকে জানান, রাতে বাড়ি ফেরার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পথচারীদের সহায়তায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। আকস্মিক এই মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ওই ব্যক্তিকে রাতে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। চিকিৎসকরা সব ধরনের চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য নিহতের মরদেহ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, দুর্ঘটনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর থানাকে অবহিত করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত গাড়িটি এবং এর চালককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
ঢাকা মহানগরীতে সাম্প্রতিক সময়ে নৈশকালীন সড়ক দুর্ঘটনা ও অনিয়ন্ত্রিত গতিতে গাড়ি চালানোর প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকাগুলোতে রাতে এবং ভোরে দ্রুতগামী দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের গতিসীমা অমান্য করার কারণে প্রায়ই সাধারণ পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বিমানবন্দর সড়কটি রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এবং দ্রুতগতির রুট হওয়ায় এখানে পারাপারের সময় পথচারীদের যেমন সতর্কতা প্রয়োজন, তেমনি ট্রাফিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নজরদারির তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বিমানবন্দর থানা পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দায়ী গাড়িটি চিহ্নিত করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে এবং এই ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।