ক্রীড়া প্রতিবেদক
ইউরোপের মাটিতে স্বাগতিক কোনো দেশের বিপক্ষে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ঐতিহাসিক জয় লাভ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। জমজমাট ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচে সান মারিনোকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই জয়ের ফলে ইউরোপীয় অঞ্চলের কোনো দলের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো জয়ের স্বাদ পাওয়ার পাশাপাশি নতুন কোচ থমাস ডুলির অধীনে নিজেদের নতুন অধ্যায়টি ইতিবাচকভাবে শুরু করল বাংলাদেশ।
গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) সান মারিনোর স্তাদিও অলিম্পিকো দি সেরাভালে স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের হয়ে দুটি জয়সূচক গোলই করেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। অন্যদিকে সান মারিনোর পক্ষে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন ফরোয়ার্ড নিকোলাস জাকোপেত্তি। শক্তিমত্তা ও র্যাংকিংয়ের বিচারে ভিন্ন আবহে খেলা হলেও ম্যাচজুড়ে বাংলাদেশের ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স লক্ষ্য করা গেছে।
খেলার প্রথমার্ধ থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের মধ্য দিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলে। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে প্রথম সাফল্যের দেখা পায় বাংলাদেশ দল। সতীর্থ মিডফিল্ডার শেখ মোরছালিনের চমৎকার ও নিখুঁত এক ক্রস থেকে ডি-বক্সে বল পেয়ে দারুণ হেডে সান মারিনোর জালে বল পাঠান ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে স্বাগতিক সান মারিনো। রক্ষণভাগের কিছুটা অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে ম্যাচের ৩১তম মিনিটে সান মারিনোর ফরোয়ার্ড নিকোলাস জাকোপেত্তি একটি মাঠজোড়ানো আক্রমণে গোল করে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান। এরপর প্রথমার্ধের বাকি সময় আর কোনো গোল না হওয়ায় সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর মাঠে নেমে কৌশলী পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ দলের সদ্য নিযুক্ত জার্মান কোচ থমাস ডুলি। দলের আক্রমণভাগের ধার বাড়াতে এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের অনুকূলে রাখতে দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করা হয়। কোচের এই নতুন কৌশল ও ফর্মুলা অনুযায়ী দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে বাংলাদেশ। বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি হলেও স্ট্রাইকারদের ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা এবং স্বাগতিক গোলরক্ষকের দক্ষতায় গোল ব্যবধান বাড়াতে পারছিল না লাল-সবুজরা।
তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এসে গোলের ডেডলক ভাঙতে সক্ষম হয় সফরকারীরা। ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে সান মারিনোর ডি-বক্সের ঠিক বাইরে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে ফ্রি-কিক পায় বাংলাদেশ। প্রবাসী তারকা মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর নেওয়া দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে তৈরি হওয়া সুবর্ণ সুযোগটি কাজে লাগাতে ভুল করেননি তপু বর্মণ। নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ম্যাচের বাকি সময় সান মারিনো আর কোনো আক্রমণ শানাতে না পারলে রেফারি শেষ বাঁশি বাজিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় ঘোষণা করেন।
এই ম্যাচটি বাংলাদেশ ফুটবল দলের জন্য বেশ কয়েকটি কারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে গণ্য হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এই ম্যাচের মাধ্যমেই বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে অভিষেক ঘটল জার্মান বংশোদ্ভূত কোচ থমাস ডুলির। প্রথম ম্যাচেই দলকে জয় এনে দিয়ে নিজের কার্যকাল শুরু করলেন এই নতুন মাস্টারমাইন্ড। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে তাদেরই ঘরের মাঠে জয় পাওয়া বাংলাদেশের ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস ও বৈশ্বিক র্যাংকিং উন্নত করতে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন ফুটবল সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা। দুই গোল করে দলের জয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন ডিফেন্ডার তপু বর্মণ।