আইন আদালত ডেস্ক
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ পিছিয়ে আগামী ১৪ জুন পুনর্নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আজ রবিবার (১৭ মে) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য নতুন এই দিন ধার্য করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। মামলার যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপনের জন্য তিনি আদালতের কাছে আরও কিছু সময় প্রার্থনা করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে শুনানি মুলতবি করেন। শুনানিকালে ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মঈনুল করিমসহ রাষ্ট্রপক্ষের অন্যান্য আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, পলাতক আসামিদের পক্ষে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্রনিযুক্ত) আইনজীবীরাও আদালতে হাজিরা দেন।
আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় এর আগে গত ২৭ এপ্রিল এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব সমাপ্ত হয়। ওই দিন মামলার ২৬তম তথা সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদকে জেরা করেন আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান। এর আগে গত ১৯ এপ্রিল এই তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছিল। রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা পর্ব শেষ হওয়ার পর মামলাটি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর্যায়ে পদার্পণ করে।
এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। আসামিদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান দমনে আইনশৃঙ্খল রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় নেতাকর্মীদের সহিংস ব্যবহারের মাধ্যমে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর এই সাত আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পরবর্তীতে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-২ আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন। দেশের ইতিহাসে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় এই মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ১৪ জুন উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা গেছে।