নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ও বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে নৌপথে যাত্রী, কোরবানির পশু এবং পণ্যবাহী কার্গো পরিবহনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌপথের তদারকিতে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না এবং পুরো ব্যবস্থা কঠোর পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
রবিবার রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে ‘নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে সড়ক, রেল ও নৌ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া, বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান তার বক্তব্যে নৌপথের শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রকৃত পরিবর্তন আনা জরুরি। অনেকগুলো কাজ অসম্পূর্ণ রাখার চেয়ে একটি কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করলে সাধারণ মানুষ তার সুফল পায়। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিশ্বব্যাপী নৌপথকে সবচেয়ে সাশ্রয়ী এবং আরামদায়ক মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশেও অন্যান্য মাধ্যমের তুলনায় নৌপথে দুর্ঘটনার হার কম। তবে এই হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে জাহাজ মালিক, শ্রমিক এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
নৌপথের বর্তমান চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও নানাবিধ কারণে দেশের নদ-নদীগুলো সংকুচিত হয়ে আসছে এবং অনেক স্থানে চর জেগে উঠছে। এই প্রতিকূলতার মাঝেও নৌপথকে সচল ও নিরাপদ রাখতে আধুনিক ও সময়োপযোগী নৌযান চালুর বিকল্প নেই। বিগত বছরগুলোর তুলনায় নৌ-দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
নৌযানের ফিটনেস এবং রুট পারমিট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী কিছু অনিয়মের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, পরিদর্শনের সময় অনেক ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে জাহাজ সাজিয়ে উপস্থাপন করা হয়, যা পরবর্তীতে তদারকির অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে সজাগ থাকার এবং নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদী উত্তাল থাকায় যাত্রীবাহী নৌযানগুলোকে সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করেই চলাচল করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঈদুল আজহার সময় কোরবানির পশু পরিবহনে অতিরিক্ত চাপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ছোট ছোট নৌপথে ঝুঁকিপূর্ণ ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যদের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, সামান্য সময়ের সাশ্রয় করতে গিয়ে যেন সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি না নেয়। একটি দুর্ঘটনা কেবল প্রাণহানিই ঘটায় না, বরং রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকেও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়।
পরিশেষে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, মালিক ও শ্রমিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের নৌপথের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার এবং যাত্রী সাধারণের জন্য নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় উক্ত সভা থেকে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রতিমন্ত্রীর এই কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে আসন্ন ঈদ ও বর্ষা মৌসুমে নৌ-দুর্ঘটনা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।