1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে বছরব্যাপী নানা আয়োজন সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন খসড়া পর্যালোচনায় ৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন সবাই মিলেমিশে থাকাই বাংলাদেশের আবহমান কালের মূল মূল্যবোধ: প্রধানমন্ত্রী দেশে জুন মাসে ৩৩৩ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার নড়াইলে চোর সন্দেহে নির্যাতনের শিকার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু, আসামি ৫ চট্টগ্রামে হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গু সংক্রমণ, এক মাসেই আক্রান্ত চারগুণ ইউরোপের ৬ দেশে রেনাটার থাইরয়েড ওষুধ রপ্তানির অনুমোদন তিস্তা প্রকল্পে চীনের অবস্থান অপরিবর্তিত, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়: ইয়াও ওয়েন

৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে সরকারের যাত্রা শুরু: প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
  • ৩২ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ব্যাপক দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের ফলে দেশ বর্তমানে ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে চলছে। এই বিপুল ঋণের বোঝা ও ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়েই বর্তমান সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে। আজ রবিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিগত সরকারের শাসনামলের চালচিত্র তুলে ধরে বলেন, তৎকালীন সময়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে রিক্ত করা হয়েছে। ফলে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নড়বড়ে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, অকার্যকর জনপ্রশাসন এবং নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) রাষ্ট্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে গত দেড় দশকে পরিকল্পিতভাবে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশার কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, দেশ এক সময় আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। একদিকে যেমন দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়েছে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকার এই অচলাবস্থা ভেঙে রাষ্ট্রকে পুনরায় সচল করার চেষ্টা করছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ভূ-রাজনৈতিক সংকট এই যাত্রাকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে। এই প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জনগণের ভোগান্তি লাঘবে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

প্রশাসনিক সংস্কার ও স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে, জনপ্রশাসন নিরপেক্ষ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে জনরায়ের সঠিক প্রতিফলন ঘটা সম্ভব। তিনি জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি পদই গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রত্যেক কর্মকর্তাকে যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশ ও জনগণের সেবায় নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হবে। সরকারি শূন্যপদগুলোতে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত জনবল নিয়োগের ঘোষণাও দেন তিনি।

রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশাসনকে মূল ভিত্তি হিসেবে ঘোষণা করে তারেক রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনই বর্তমান লক্ষ্য। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। ইতিমধ্যে বিভিন্ন খাত চিহ্নিত করে দেশে ও বিদেশে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বাজার ব্যবস্থাপনা ও জনভোগান্তি রোধে জেলা প্রশাসকদের কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে নিয়মিত বাজার তদারকি এবং মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান ও জোরদার করতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোড়গোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদাত্ত আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে জেলা প্রশাসকরা সরকারের নীতি নির্ধারণী বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি নিজ নিজ জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরবেন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026