বাংলাদেশ ডেস্ক
সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এবং গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের একটি পূর্ণাঙ্গ, নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত এই তালিকা সম্পন্ন না হওয়ায় বর্তমান সরকার এই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, এই তালিকা বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমীন দুলালের এক প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপিত হয়।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধার বর্তমান সংখ্যা ৬ হাজার ৪৮০ জন। মন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই শহীদদের মধ্যে ৩ হাজার ৬৯৮ জন বেসামরিক গেজেটভুক্ত। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর ১ হাজার ৫৪১ জন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৮১৭ জন, পুলিশের ৪২৩ জন এবং আনসার বাহিনীর একজন সদস্য শহীদ হিসেবে গেজেটভুক্ত রয়েছেন। সরকার এখন এই তালিকার পরিধি বৃদ্ধি করে সকল শহীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
একই অধিবেশনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী জানান, মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সুপারিশক্রমে ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৭৬ জনের গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা বা ভারতীয় তালিকা থেকে নাম বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের ২৪শে আগস্ট থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ৪৮১ জনের গেজেট বাতিল করা হয়েছে। অমুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার সুরক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
এদিকে কৃষি খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার বড় ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সংসদকে জানান, দেশে বর্তমানে মোট ১১ হাজার ৫ জন সার ডিলার নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে বিসিআইসির ৫ হাজার ৬৬৯ জন এবং বিএডিসির ৫ হাজার ৩৩৬ জন ডিলার কৃষকদের মাঝে সার সরবরাহের কাজ করছেন।
গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানীর প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী একটি উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সরকার বিভিন্ন অনিয়ম ও নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত ২ হাজার ৩১১ জন সার ডিলারের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে। বর্তমানে এসব অভিযুক্তদের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। অনিয়মের মাত্রা বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে তাদের ডিলারশিপ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং শূন্য পদে নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
কৃষি জমির সুরক্ষার বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী জানান, ইটভাটায় ব্যবহারের জন্য ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কাটার ফলে দেশে ১৫ হাজার ৪৫০ একর জমি বর্তমানে আবাদ অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার আইনগত ব্যবস্থা জোরদার করছে।
অধিবেশনে পর্যটন খাতের উন্নয়ন নিয়ে জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবুর প্রশ্নের জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, সরকার ২০৪০ সালের মধ্যে দেশে ৫৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন পর্যটক আকর্ষণ এবং এই খাতের মাধ্যমে ২ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। মূলত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে তুলে ধরতেই এই মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।