নিজস্ব প্রতিবেদক
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বসতঘরের ওপর গাছ উপড়ে পড়ে একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোররাতে উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের দাগী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন— মৃত গনি মণ্ডলের স্ত্রী খুকি বেগম (৫৬) এবং তার দুই মেয়ে ফরিদা আক্তার (৩৫) ও ফতে বেগম (৪০)। তারা সবাই ঘটনার সময় নিজ ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত শেষ রাত থেকে জামালপুরের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র বেগে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। দাগী এলাকায় ঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে খুকি বেগমের টিনশেড বসতঘরের পাশে থাকা একটি বড় গাছ উপড়ে সরাসরি ঘরের ওপর পড়ে। এতে মুহূর্তেই ঘরটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা তিনজনই গাছের নিচে চাপা পড়েন। ঝড়ের শব্দ ও ঘর ভেঙে পড়ার বিকট আওয়াজে আশপাশের প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিক উদ্ধার কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীকালে স্থানীয়রা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনার পরপরই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পেয়ে সকালে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতের পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র এবং আকস্মিক এই দুর্যোগে তাদের বসতঘরটিও সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। পরিবারের উপার্জক্ষম পুরুষ সদস্যের অনুপস্থিতিতে তারা একসাথেই বসবাস করতেন।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঝড় চলাকালীন গাছ ভেঙে পড়ার কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে। কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহগুলো দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চৈত্র-বৈশাখ মাসে আকস্মিক এই বজ্রঝড় ও কালবৈশাখীর প্রবণতা বাংলাদেশে স্বাভাবিক বিষয় হলেও জামালপুরসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে বাতাসের গতিবেগ ও বজ্রপাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জরাজীর্ণ ঘরবাড়ি ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালার পাশে থাকা বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বসতবাড়ির একদম গা ঘেঁষে বড় ও পুরনো গাছ থাকা অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের পরিবারকে সরকারি বিধি মোতাবেক আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে জেলা প্রশাসনের বিশেষ তহবিল থেকে অনুদান প্রদানের বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে। একই সাথে এলাকায় ঝড়ে আর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিরূপণ করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কালবৈশাখীর এই মৌসুমে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য সচেতনতামূলক প্রচার জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।