নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের রাউজানে রাজনৈতিক সহিংসতার ধারাবাহিকতায় আবারও এক যুবককে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নে রোববার দিবাগত রাতে সংঘটিত এই হামলায় মো. নাসির উদ্দিন (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত নাসির কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দুদু মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে দুর্বৃত্তরা নাসির উদ্দিনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরে আলম জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে রাতে জরুরি বিভাগে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য ২ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করেন। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্বজনদের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফসল হিসেবে দাবি করা হয়েছে। নাসিরের ভাতিজা মো. সম্রাট অভিযোগ করেন, তার চাচা জাতীয়তাবাদী যুবদলের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ তাকে টার্গেট করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এক কন্যা সন্তানের জনক নাসিরের মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য ও স্থানীয় পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে রাউজান উপজেলায় সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত কয়েক মাসে এই উপজেলায় অন্তত ২৩ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। নিহতদের একটি বড় অংশই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচিত। এসব ঘটনায় স্থানীয় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার দিবাগত রাতেও রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলিখীল খামারটিলা এলাকায় বাবলু নামের এক ব্যক্তিকে একইভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। ব্রিকফিল্ড সংলগ্ন এলাকায় ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পর পর দুটি হত্যাকাণ্ডের ধরণ বিশ্লেষণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধারণা করছে, পূর্ব শত্রুতা এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই সশস্ত্র হামলার ঘটনাগুলো ঘটছে।
রাউজানে ক্রমবর্ধমান এই অপরাধ প্রবণতা এবং একের পর এক খুনের ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কদলপুরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে বারবার এ ধরনের সশস্ত্র হামলার ঘটনায় সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও নিরাপত্তার অভাব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে রাউজানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।