রাজনীতি ডেস্ক
অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের অবদানের স্বীকৃতি এবং তাঁর স্মৃতি রক্ষায় বিএনপি ভবিষ্যৎ সরকার পরিচালনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর সংলগ্ন তিন নেতার মাজারে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের মতো মহান নেতার স্মৃতিগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে বরং অনেক ক্ষেত্রে তা অবজ্ঞা বা বিনষ্ট করা হয়েছে। তিনি বলেন, শেরেবাংলা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলের নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন সমগ্র বাংলার গণমানুষের অবিসংবাদিত নেতা। বিশেষ করে পূর্ব বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ে এবং শিক্ষায় অনগ্রসর মুসলিম সমাজকে এগিয়ে নিতে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিএনপি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে এই মহান নেতার যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
শেরেবাংলার ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত স্থাপন এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে অসংখ্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান গড়ার পেছনে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। ১৯১৩ সালে বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি কৃষকদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার ছিলেন। প্রজাস্বত্ব আইন প্রণয়নে তাঁর অবদান আজ অবধি বাংলাদেশের কৃষিজীবী মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। নজরুল ইসলাম খান আক্ষেপ করে বলেন, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতিদের অন্যতম হওয়া সত্ত্বেও বর্তমান সময়ে এই জননেতাকে নিয়ে চর্চা ও আলোচনা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে সাথে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় পাঠ্যপুস্তক থেকে শেরেবাংলার জীবনী ও রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস সংকুচিত বা মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বিএনপি এবং বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয় যেন পরবর্তী প্রজন্মের কাছে শেরেবাংলার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে পাঠ্যপুস্তকে তাঁর অবদান পুনর্মূল্যায়ন ও বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের মতো নেতার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং তাঁর অবদান নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত জাতীয় রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। শেরেবাংলা ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের উত্থাপক ছিলেন। তাঁর প্রবর্তিত ঋণ সালিশি বোর্ড বাংলার লক্ষ লক্ষ ঋণগ্রস্ত কৃষককে মহাজনী ঋণের হাত থেকে রক্ষা করেছিল।
বিএনপির পক্ষ থেকে আয়োজিত এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে দলটির কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা উল্লেখ করেন, শেরেবাংলার প্রদর্শিত অসাম্প্রদায়িক ও কৃষকবান্ধব রাজনীতির আদর্শ বর্তমান সময়ে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর মরহুম নেতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। বিএনপি নেতারা জানান, দলগতভাবে তাঁরা শেরেবাংলার আদর্শ প্রচার ও প্রসারে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করছেন।