আইন আদালত ডেস্ক
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগে করা এক মামলায় হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মুফতি আমির হামজা। সোমবার (২৭ এপ্রিল) হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে নিম্ন আদালত থেকে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলা দায়রা ও জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে আমির হামজার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। বাদী তার আরজিতে উল্লেখ করেন, গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানিয়ে একটি বক্তব্য প্রদান করেন।
উক্ত বক্তব্যের সূত্র ধরে গত ২৯ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে আলোচনা সভায় মুফতি আমির হামজা মন্ত্রীকে ‘নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, আমির হামজা কেবল রাজনৈতিক ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত আক্রমণই করেননি, বরং ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছেন যা সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির নামান্তর।
মামলা দায়েরের পর আদালত আমির হামজাকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছিলেন। তবে নির্ধারিত তারিখে তিনি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় গত ২১ এপ্রিল সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। এই পরোয়ানা জারির প্রেক্ষাপটে আমির হামজা উচ্চ আদালতে আত্মসমর্পণ করে আগাম জামিনের আবেদন জানান।
সোমবার শুনানিকালে আমির হামজার আইনজীবীরা যুক্তি দেখান যে, রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করলেও আদালত সার্বিক দিক বিবেচনা করে তাকে আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন আগাম জামিন প্রদান করেন। এই সময়ের পর তাকে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে পুনরায় আত্মসমর্পণ করতে হবে।
আইনজীবীদের মতে, কোনো জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে মানহানির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং পরবর্তীতে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার ঘটনাটি আইনগত প্রক্রিয়ারই অংশ। তবে ধর্মীয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা মানহানিকর বক্তব্য প্রদানের বিষয়ে উচ্চ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বক্তাদের ভবিষ্যতে সতর্ক হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। বর্তমানে এই মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নিম্ন আদালতে জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুনরায় শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।