1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে বছরব্যাপী নানা আয়োজন সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন খসড়া পর্যালোচনায় ৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন সবাই মিলেমিশে থাকাই বাংলাদেশের আবহমান কালের মূল মূল্যবোধ: প্রধানমন্ত্রী দেশে জুন মাসে ৩৩৩ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার নড়াইলে চোর সন্দেহে নির্যাতনের শিকার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু, আসামি ৫ চট্টগ্রামে হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গু সংক্রমণ, এক মাসেই আক্রান্ত চারগুণ ইউরোপের ৬ দেশে রেনাটার থাইরয়েড ওষুধ রপ্তানির অনুমোদন তিস্তা প্রকল্পে চীনের অবস্থান অপরিবর্তিত, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়: ইয়াও ওয়েন

শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ: রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা ও বাণীবরণ

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫১ বার দেখা হয়েছে

 

বিশেষ প্রতিবেদক

উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ এবং অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এই ক্ষণজন্মা নেতার প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বাণী প্রদান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি শেরেবাংলাকে অসাধারণ প্রজ্ঞাবান, অসম সাহসী এবং বিচক্ষণ রাজনীতিক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মেহনতি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে এই নেতার অবদানের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য থেকে শুরু করে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সভাপতি, কলকাতার মেয়র, অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এবং পরবর্তীকালে পূর্ব বাংলার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে তিনি এ দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বাংলার সাধারণ কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৩৬ সালে কৃষক প্রজা পার্টি এবং ১৯৫৩ সালে শ্রমিক-কৃষক দল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়েছিলেন। শেরেবাংলার বিশেষ উদ্যোগ ‘ঋণ সালিশি বোর্ড’ গঠন ছিল বাংলার শোষিত ও নির্যাতিত কৃষকদের ঋণের জালে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা অবস্থা থেকে মুক্তির এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তাঁর এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার কৃষক পরিবার জমি ও বাস্তুভিটা হারানোর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল।

আইনি সংস্কার ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে শেরেবাংলার ভূমিকা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক বঙ্গীয় চাকরি নিয়োগবিধি, প্রজাস্বত্ব আইন, মহাজনি আইন এবং দোকান কর্মচারী আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের অবহেলিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এসব জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ বাংলার মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির ভাগ্য পরিবর্তনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। বিশেষ করে শিক্ষার বিস্তারে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য, যা পরবর্তী সময়ে এ অঞ্চলের মুসলিম সমাজের জাগরণে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

আমাদের জাতীয় ইতিহাসের বাঁকবদলে শেরেবাংলার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোর সম্মেলনে তিনি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ উত্থাপন করেন। এই প্রস্তাবের মধ্যেই নিহিত ছিল এ অঞ্চলের মানুষের আত্মপরিচয়ের সন্ধান এবং ভবিষ্যতের স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও পথনির্দেশনা। তাঁর সেই বলিষ্ঠ পদক্ষেপই মূলত বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনীতিবিদরা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক আদর্শ ও দর্শন অনুসরণ করবেন। একটি সুখী, সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে তাঁর জীবন ও কর্ম থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার জন্য তিনি দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান। মেহনতি মানুষের কল্যাণে শেরেবাংলার ত্যাগ ও একনিষ্ঠতা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে বলে রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026