অর্থনীতি প্রতিবেদক
দেশের বাজারে মূল্যবান ধাতু সোনা ও রুপার দামে বড় ধরনের সংশোধন এনেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা এবং রুপার দাম ভরিতে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী আজও (সোমবার, ২৭ এপ্রিল) সারা দেশে অলঙ্কার কেনাবেচা চলছে।
বাজুস সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ সোনা বা তেজাবি সোনার দাম হ্রাস পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে অভ্যন্তরীণ বাজারেও এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে দেশের বাজারে সোনার দামের টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় কিছুটা লাগাম পড়ল।
নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, বর্তমানে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।
এর আগে গত ১৫ এপ্রিল সবশেষ সোনার দাম বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা। ওই সময় ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকায় পৌঁছেছিল। মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে বড় অংকের এই দরপতন জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতাদের মাঝেও বিশেষ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই দেশের বাজারে ৫৬ বার সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৩২ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২৪ বার কমানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালে বছরজুড়ে মোট ৯৩ বার সোনার দাম পরিবর্তন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার ছিল মূল্যবৃদ্ধি এবং ২৯ বার ছিল হ্রাসের ঘটনা। বারবার দামের এই পরিবর্তন বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও মুদ্রাবাজারে অস্থিরতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
সোনার সমান্তরালে দেশের বাজারে কমানো হয়েছে রুপার দামও। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায় স্থির হয়েছে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত রুপার দাম মোট ৩৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ বার দাম বেড়েছে এবং ১৬ বার কমানো হয়েছে। বিগত ২০২৫ সালে রুপার দাম ১৩ বার পরিবর্তন করা হয়েছিল, যেখানে ১০ বার দাম বাড়লেও কমেছিল মাত্র ৩ বার। সেই তুলনায় চলতি বছরের শুরু থেকেই রুপার বাজারে অস্থিরতা এবং ঘনঘন মূল্যের হ্রাস-বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের বিনিময় হার এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে মূল্যবান ধাতুর বাজারে এই অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য রক্ষায় এবং সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়মিতভাবে এই মূল্য সমন্বয় প্রক্রিয়া চলমান থাকে। দাম কমার ফলে বিয়ের মৌসুম ও উৎসবকে সামনে রেখে গয়নার দোকানে গ্রাহক উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। তবে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আগামীতে দামের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে কিছুটা সংশয়ও রয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।