ক্রীড়া প্রতিবেদক
স্পেনের দ্বিতীয় স্তরের ফুটবল লিগ ‘সেগুন্ডা ডিভিশন’-এ রিয়াল জারাগোজা ও হুয়েস্কার মধ্যকার ম্যাচে অনাকাঙ্ক্ষিত এক সহিংস ঘটনার অবতারণা হয়েছে। ম্যাচ চলাকালীন মেজাজ হারিয়ে প্রতিপক্ষ দলের অধিনায়ককে শারীরিক আঘাত করায় এখন বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়েছেন জারাগোজার আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এস্তেবান আন্দ্রেদা। এই ঘটনায় ফুটবলের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ম্যাচটি যখন শেষ পর্যায়ের দিকে এবং দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে স্নায়বিক চাপ তুঙ্গে, ঠিক তখনই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। খেলার অন্তিম মুহূর্তে টাচলাইনের কাছাকাছি অবস্থানে থাকা হুয়েস্কা অধিনায়ক জর্জ পুলিদো কোনো একটি বিষয়ে কথা বলতে আন্দ্রেদার দিকে এগিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে আন্দ্রেদা হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুলিদোকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। মাঠের দায়িত্বে থাকা রেফারি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন এবং আন্দ্রেদাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড প্রদর্শন করেন।
দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের ফলে লাল কার্ড নিশ্চিত হওয়ার পর আন্দ্রেদা আরও মারমুখী হয়ে ওঠেন। মাঠ ছাড়ার পরিবর্তে তিনি দৌড়ে গিয়ে মাটিতে পড়ে থাকা পুলিদোকে লক্ষ্য করে ঘুষি মারেন। এই ঘটনার পরপরই উভয় দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা মাঠে তর্কে ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন, যা ম্যাচ চলাকালীন এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে যখন হুয়েস্কার গোলরক্ষক দানি জিমেনেজ এই সুযোগে আন্দ্রেদাকে পাল্টা আঘাত করেন। ফলশ্রুতিতে রেফারি দানি জিমেনেজকেও সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন।
ম্যাচ শেষে পাওয়া প্রতিবেদনে জানা গেছে, উত্তেজনার পারদ ছড়ানো এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে হুয়েস্কা ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। বর্তমানে দুই দলই লিগ টেবিলের নিচের দিকে অবস্থান করছে এবং অবনমন এড়ানোর জন্য কঠোর সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের প্রধান গোলরক্ষকের এই অপেশাদার আচরণ জারাগোজার জন্য বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় এস্তেবান আন্দ্রেদা নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “মাঠে যা ঘটেছে তার জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখিত। এটি ক্লাব এবং ভক্তদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক একটি উদাহরণ। একজন পেশাদার ফুটবলার হিসেবে আমার কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে জর্জ পুলিদোর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
তবে ক্ষমা চাইলেও স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের কঠোর নিয়ম অনুযায়ী বড় ধরনের শাস্তির হাত থেকে বেঁচে যাওয়া আন্দ্রেদার জন্য কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্প্যানিশ ফুটবলের শৃঙ্খলা কমিটি রেফারির ম্যাচ রিপোর্ট পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। সাধারণত মাঠে এমন শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনায় খেলোয়াড়দের চার থেকে ১২ ম্যাচ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার নজির রয়েছে। যদি বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসে, তবে অবনমন অঞ্চলের লড়াইয়ে থাকা রিয়াল জারাগোজা মৌসুমে বাকি ম্যাচগুলোতে বড় ধরনের সংকটে পড়বে। ইউরোপীয় ফুটবল মহলে এই ঘটনাটি খেলোয়াড়দের মাঠে ধৈর্য বজায় রাখা এবং পেশাদার আচরণের প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।