আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কুয়েতের প্রধান বিমানবন্দরে বুধবার ফের ড্রোন হামলা সংঘটিত হয়েছে, যার ফলে বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে ব্যাপক আগুন লেগেছে। কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা জানিয়েছে, এই হামলার কারণে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র জানান, হামলায় কুয়েত এভিয়েশন ফুয়েলিং কোম্পানির মালিকানাধীন জ্বালানি ট্যাংকারগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং বিমানবন্দরের নিয়মিত কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান-সংশ্লিষ্ট গ্রুপের হামলার আশঙ্কা বাড়ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোতে বেসামরিক ও তেল সংক্রান্ত অবকাঠামোর উপর একাধিক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলাগুলি অঞ্চলের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি করেছে।
কুয়েত এভিয়েশন ফুয়েলিং কোম্পানি দেশটির প্রধান বেসামরিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন বিমান পরিষেবা প্রতিষ্ঠানকে জ্বালানি সরবরাহ করে। ড্রোন হামলার ফলে কোম্পানির সাময়িক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিমানবন্দর পরিচালনার নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা পুনঃপ্রমাণ করে।
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, যদি ভবিষ্যতে এমন হামলা বৃদ্ধি পায়, তাহলে কুয়েতসহ উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর বেসামরিক বিমান ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করতে ও বিমানবন্দর নিরাপত্তা আরও কড়া করার প্রয়োজন হবে।
এই হামলার পেছনের দায়িত্ব এখনও নিশ্চিত হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সম্পর্ক দেখতে পাচ্ছেন, বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। কুয়েত সরকারের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ভবিষ্যতে পুনরায় এমন ঘটনা রোধের জন্য সতর্ক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।