নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় এবং চলতি অর্থবছরের দশম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। আজকের বৈঠকে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের মোট ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আজকের সভার আলোচ্যসূচিতে থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি। এই বিভাগের ১১টি প্রকল্প সভায় তোলা হচ্ছে। এছাড়া আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের চারটি এবং কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের দুটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য তালিকায় রয়েছে। এই ১৭টি প্রকল্পের বাইরেও পরিকল্পনা মন্ত্রীর অনুমোদিত আরও ৩৩টি প্রকল্প একনেক সদস্যদের অবগতির জন্য সভায় উপস্থাপন করা হবে।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল বর্তমান সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে ৪৮৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ছয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ওই সভায় মোট ১৯টি প্রকল্প উপস্থাপনের কথা থাকলেও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে সবগুলো নিয়ে আলোচনা সম্ভব হয়নি। আটটি প্রকল্প নিয়ে প্রাথমিক আলোচনার পর সভা স্থগিত করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছয়টি অনুমোদন পায় এবং দুটি প্রকল্প অধিকতর পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়। পূর্ববর্তী সভার অনিষ্পন্ন প্রকল্পসহ নতুন প্রস্তাবনাগুলো নিয়েই আজকের বৈঠকে বিস্তারিত পর্যালোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী একনেক সভা সাধারণত শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়ে আসলেও এবার সেই ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আজকের বৈঠকটি সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ ব্যাখ্যা করা না হলেও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় কাজের ব্যস্ততা এবং সচিবালয়কেন্দ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা বজায় রাখতেই এই সমন্বয় করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের বৈঠকে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো দেশের তৃণমূল পর্যায়ের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে ভৌত অবকাঠামো খাতের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নগর সুবিধা সম্প্রসারণে নতুন মাত্রা যোগ হবে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শনের প্রতিফলন হিসেবে এই প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো ইতিমধ্যে প্রকল্পগুলোর কারিগরি ও আর্থিক উপযোগিতা যাচাই সম্পন্ন করেছে, যা আজকের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদনের পথ প্রশস্ত করবে।
১৭টি প্রকল্পের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে সরকারের নিজস্ব তহবিল এবং বৈদেশিক সহায়তার সম্ভাব্য উৎসগুলো নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। সরকারের দ্বিতীয় একনেক বৈঠক হিসেবে দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সভাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। বৈঠক শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট সচিব সংবাদ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত তথ্য এবং বরাদ্দকৃত অর্থের খাতওয়ারি বিবরণ গণমাধ্যমকে অবহিত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।