রাজধানী ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের লক্ষ্যে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপি ও তাদের মিত্র স্বতন্ত্র জোটের ৩৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দুই দিনব্যাপী বাছাই কার্যক্রম শেষে আজ বৃহস্পতিবার সর্বমোট ৪৯ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ বলে গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ৩৬ জন এবং তাদের মিত্র স্বতন্ত্র জোটের একজন প্রার্থীর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন এই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দীন খান। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঠিক থাকায় উল্লিখিত প্রার্থীদের মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে।
বিএনপির মনোনীত যে ৩৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে তারা হলেন— সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা। এছাড়া বিএনপির মিত্র স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী হিসেবে ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সুলতানা জেসমিন জুঁইয়ের মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে, জামায়াত জোটের মনোনীত ১৩ প্রার্থীর মধ্যে ১২ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে কমিশন। বৈধ প্রার্থীরা হলেন— নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন নাহার মুন্নি, মারদিয়া মমতাজ, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা সিদ্দিকা, সাজেদা সামাদ, সামসুন নাহার, মাহমুদা আলম মিতু, তাসমিয়া প্রধান, মাহবুবা হাকিম ও রোকেয়া বেগম। তবে আইনগত জটিলতায় জামায়াত জোটের শরিক এনসিপি মনোনীত প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের পর তিন বছর অতিবাহিত না হওয়ার কারণে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয় বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া কোনো সুনির্দিষ্ট দল বা জোটের সমর্থন না থাকায় আরও তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে কমিশন।
উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র দাখিলের নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারায় জামায়াত জোটের অপর প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের আবেদন গ্রহণ করেনি ইসি। বর্তমান সংসদের আসন বিন্যাস অনুযায়ী জামায়াত জোটের ভাগে ১৩টি আসন বরাদ্দ থাকলেও একটি আসনে বৈধ প্রার্থী না থাকায় আসনটি বর্তমানে শূন্য থাকছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, ওই একটি আসনের জন্য পরবর্তীতে নতুন তফসিল ঘোষণা করে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা আগামী ২৬ এপ্রিল আপিল দায়ের করার সুযোগ পাবেন। প্রাপ্ত আপিলসমূহ ২৭ ও ২৮ এপ্রিল নিষ্পত্তি করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ এপ্রিল। এরপর ৩০ এপ্রিল চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে সংরক্ষিত নারী আসনসমূহ সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হারে বণ্টিত হয়। এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদের উচ্চকক্ষ বা নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নারী নেতৃত্বের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তবে যেসকল প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তারা চাইলে নির্ধারিত সময়ে কমিশনের ট্রাইব্যুনালে আপিল করে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবেন।