রাজনীতি ডেস্ক
রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপি জোট, জামায়াত ও স্বতন্ত্র মোর্চার ৪৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা এই ঘোষণা প্রদান করেন। বাছাই প্রক্রিয়ায় বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত সমর্থিত জোটের ১২ জন এবং স্বতন্ত্র মোর্চার একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে।
মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান দেশের গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের উন্নয়ন, বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণ এবং দীর্ঘকাল ধরে বঞ্চিত ও নির্যাতিত সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনাই তাদের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে যারা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছেন, তাদের জীবনমান উন্নয়নে ও সমান সুযোগ নিশ্চিতে সংসদীয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সেলিমা রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সংসদীয় কার্যক্রমে সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং নির্দেশনার আলোকেই তারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনী এলাকার বিদ্যমান সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কাজের সমন্বয় বা কর্মপরিধি নির্ধারণের বিষয়টি মূলত দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে তিনি দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
মনোনয়ন বৈধ হওয়া বিএনপি জোটের আরেক নেত্রী শিরিন সুলতানা দেশের নারী সমাজের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, নারীদের অধিকার নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনার চেয়ে প্রায়োগিক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। একইসঙ্গে সমাজে ক্রমবর্ধমান মাদক সমস্যার সমাধানে এবং যুব সমাজকে রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। জোটের অপর নেত্রী রেহানা আক্তার রানু উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় শামিল হওয়ার পাশাপাশি সংসদীয় বিধিবিধানের সঠিক চর্চা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্বতন্ত্র মোর্চা থেকে মনোনয়ন বৈধ হওয়া সুলতানা জেসমিন দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কারিগরি শিক্ষার প্রসারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং কৃষিখাতে আধুনিকায়নের বিকল্প নেই। তিনি কেবল নারী অধিকার নয়, বরং দেশের আপামর জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন প্রক্রিয়া দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত সাধারণ আসনেরুপাতে সংরক্ষিত আসন বণ্টিত হয়। এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট ও স্বতন্ত্র অবস্থান থেকে নারী প্রার্থীদের এই অংশগ্রহণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। আগামী দিনগুলোতে নির্বাচিত এই সদস্যরা আইন প্রণয়ন এবং জনস্বার্থ রক্ষায় কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারেন, তা এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তফশিল অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।