ক্রীড়া প্রতিবেদক
ইউরোপীয় ফুটবলের চলতি মৌসুমের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুই সদস্য—মিডফিল্ডার আর্দা গুলার ও রক্ষণভাগের নির্ভরযোগ্য সেনানি এডার মিলিতাও হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ে মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন। গত বৃহস্পতিবার ক্লাবের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ক্লাব সূত্রের খবর অনুযায়ী, চোটের তীব্রতার কারণে এই দুই ফুটবলারকে আগামী অন্তত চার সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে।
লা লিগার শিরোপা লড়াই যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই এই দুঃসংবাদটি আসলো মাদ্রিদ শিবিরে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন এবং ক্লাবের মেডিকেল টিমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানানো হয়েছে, দুজনেরই হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট ধরা পড়েছে। তবে ভক্তদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, আগামী ১১ জুন উত্তর আমেরিকায় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আগেই তারা সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
টার্কিশ তরুণ প্রতিভা আর্দা গুলারের চোটের ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিনের অনুশীলনে। অনুশীলন চলাকালীন গুলার তার পায়ের পেশিতে অস্বস্তি অনুভব করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে দলীয় অনুশীলন থেকে সরিয়ে জিমে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর জানা যায়, তার ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট লেগেছে। এই চোটের ফলে লিগের অবশিষ্ট ম্যাচগুলোতে তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
অন্যদিকে, ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার এডার মিলিতাও চোট পেয়েছেন গত মঙ্গলবার আলাভেসের বিপক্ষে লিগ ম্যাচে। ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে গিয়ে তিনি পায়ে ব্যথা অনুভব করেন। পরিস্থিতি গুরুতর বুঝতে পেরে তিনি মাঠ থেকেই পরিবর্তনের সংকেত দেন। ম্যাচের পর কোচ আলভারো আরবেলোয়া মিলিতাওয়ের চোট নিয়ে কিছুটা ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও পরবর্তীতে এমআরআই স্ক্যানে দেখা যায় তার বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২৮ বছর বয়সী মিলিতাওয়ের জন্য এই চোটটি ক্যারিয়ারের আরেকটি বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত কয়েক মৌসুমে তিনি ধারাবাহিকভাবে ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করছেন। এর আগে টানা দুই বছর এসিএল (এন্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট) ইনজুরিতে ভুগে দীর্ঘ সময় তাকে মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে। রক্ষণভাগের প্রধান স্তম্ভের এমন বারবার ছিটকে যাওয়া রিয়াল মাদ্রিদের রক্ষণভাগকে দুর্বল করে তুলছে।
বর্তমানে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের সমীকরণ অনুযায়ী, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা শিরোপার খুব কাছে অবস্থান করছে। লিগের ছয় রাউন্ড বাকি থাকতে ৩২ ম্যাচে ৮২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে কাতালান ক্লাবটি। বিপরীতে ৭৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ তাদের চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে। শিরোপার আশা বাঁচিয়ে রাখতে রিয়ালের জন্য সামনের ম্যাচগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যেখানে এই দুই মূল খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি কোচকে নতুন কৌশলে দল সাজাতে বাধ্য করবে।
আগামী ১০ মে কাম্প নউয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মৌসুমের দ্বিতীয় ‘এল ক্লাসিকো’। স্প্যানিশ ফুটবলের এই মহারণে মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ম্যাচেই লিগ শিরোপার ফয়সালা হয়ে যেতে পারে। রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান পয়েন্ট ব্যবধান ও প্রধান খেলোয়াড়দের ইনজুরি বার্সেলোনার জন্য টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের পথকে আরও সুগম করে দিল। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে ইতিমধ্যে বিদায় নেওয়া রিয়াল মাদ্রিদের জন্য এখন ঘরোয়া লিগের সম্মানজনক সমাপ্তি এবং খেলোয়াড়দের ফিটনেস ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।