আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারত মহাসাগরে অভিযান চালিয়ে ইরান থেকে তেল পরিবহনকারী একটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জব্দকৃত জাহাজটির নাম ‘এম/টি ম্যাজেস্টিক’। এটি একটি ‘রাষ্ট্রহীন’ (স্টেটলেস) জাহাজ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যার কোনো স্বীকৃত জাতীয়তা বা নির্দিষ্ট দেশের নিবন্ধন ছিল না। জাহাজটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরান থেকে জ্বালানি তেল পরিবহন করছিল বলে মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে। ভারত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই তল্লাশি ও নিয়ন্ত্রণ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানকে ‘বস্তুগত সহায়তা’ প্রদান করছে এমন সন্দেহভাজন জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই অভিযান একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। বিশেষ করে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে এই ধরনের কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, অবৈধ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জ্বালানি পাচারের ফলে প্রাপ্ত অর্থ বিভিন্ন অস্থিতিশীল কার্যকলাপে ব্যবহৃত হয়, যা বন্ধ করা তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
এর আগে গত ২১ এপ্রিল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে ‘এম/টি টিফানি’ নামক আরও একটি জাহাজ জব্দ করার তথ্য জানিয়েছিল পেন্টাগন। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় জাহাজ জব্দের ঘটনাটি ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌ-নিরাপত্তা এবং নজরদারি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর চাপ বজায় রাখতে এবং অবৈধ নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত যেকোনো নিষিদ্ধ জাহাজ যেখানেই থাকুক না কেন, তা রুখে দিতে বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক আইন প্রয়োগকারী কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজ আটকের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ডজনখানেক জাহাজ আটক করেছে। তবে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, জাহাজগুলো ইরানের জলসীমার কাছাকাছি নয়, বরং ভারত মহাসাগরের দূরবর্তী ও গভীর এলাকা থেকে জব্দ করা হচ্ছে। এটি নির্দেশ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র তার গোয়েন্দা নজরদারি এবং সামরিক তৎরতা মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত করেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অতীতে এ ধরনের ঘটনাকে তেহরান জলদস্যুতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ পাচার রোধে এই পদক্ষেপগুলো অপরিহার্য।
বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান রুট হলো হরমুজ প্রণালি ও ভারত মহাসাগর। এই অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা এবং একের পর এক জাহাজ জব্দের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বৃহৎ শক্তিগুলোর এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, তারা এই এলাকায় তাদের উপস্থিতি বজায় রাখবে এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী যেকোনো প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করবে।