1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ইরানের শাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত: নেতৃত্বে রেভল্যুশনারি গার্ডসের জেনারেলরা হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের শুল্ক থেকে রাশিয়াকে অব্যাহতি দিল ইরান উত্তরার বারে পুলিশের অভিযান: লাইসেন্সবিহীন মদ্যপানের অভিযোগে আটক ১৪০ ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে আশাবাদী টেনিস তারকা জেভেরেভ মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জোড়া চোটের ধাক্কায় রিয়াল মাদ্রিদ, ছিটকে গেলেন গুলার ও মিলিতাও সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, আপিলের ঘোষণা সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি জোটসহ ৪৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা ভারত মহাসাগরে ইরান থেকে তেল পরিবহনকারী জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনকারী নৌযান দেখলেই তা গুলি করে ধ্বংস করার জন্য মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ ট্রাম্পের ভারত ও চীনকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত পোস্ট শেয়ার: কূটনৈতিক ও মানবাধিকার মহলে তীব্র সমালোচনা

উত্তরার বারে পুলিশের অভিযান: লাইসেন্সবিহীন মদ্যপানের অভিযোগে আটক ১৪০

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

রাজধানী ডেস্ক

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকার একটি রেস্টুরেন্ট ও বারে অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৪০ জনকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের একটি ভবনে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট বারটিতে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন এবং লাইসেন্স ছাড়া মদ্যপানের অভিযোগে তাদের হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই বারটিতে নির্দিষ্ট সময়ের বাইরেও কার্যক্রম পরিচালনা এবং অবৈধভাবে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা বিভাগের পুলিশ সদস্যরা বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর ভবনটি ঘেরাও করেন। অভিযানের সময় বারটিতে বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে উপস্থিত প্রত্যেকের পরিচয় এবং মদ্যপানের বৈধ পারমিট বা লাইসেন্স যাচাই শুরু করে। যাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র পাওয়া গেছে, তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে মদ্যপানের কোনো আইনগত নথিপত্র দেখাতে না পারায় ১৪০ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

উত্তরা বিভাগীয় পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি তাদের বরাদ্দকৃত লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে আসছিল কিনা, তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সাধারণ খাবারের রেস্টুরেন্টের আড়ালে গভীর রাত পর্যন্ত অবৈধ বার পরিচালনা করা হয়, যা আবাসিক এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলার পরিপন্থী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট পরিমাণ অ্যালকোহল গ্রহণ বা সংরক্ষণের জন্য সরকার নির্ধারিত লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। যথাযথ লাইসেন্স ছাড়া মাদক সেবন বাংলাদেশে প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

অভিযানের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ জানায়, আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মধ্যে কারোর বিরুদ্ধে আগে থেকে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের কেউ যদি এই অবৈধ কাজে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকেন বা উসকানি দিয়ে থাকেন, তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই অভিযানের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, রাজধানীজুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য হ্রাস এবং মাদকের অপব্যবহার রোধে পুলিশ বর্তমানে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। উত্তরাসহ রাজধানীর আবাসিক এলাকাগুলোতে গড়ে ওঠা তথাকথিত ক্লাব ও বারের আড়ালে মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ নিয়মিত বিরতিতে পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে গভীর রাত পর্যন্ত তরুণ-তরুণীদের অবাধ যাতায়াত এবং উচ্চ শব্দে গান-বাজনা প্রতিবেশীদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, এই ধরনের অভিযান কেবল মাদক নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও সহায়ক।

এদিকে, ডিএমপির পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিশেষ প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না। ভবিষ্যতে রাজধানীর অন্যান্য এলাকায় অবস্থিত বার ও সমজাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও পর্যায়ক্রমে তদারকি এবং তল্লাশি চালানো হবে। আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই, তবে আইনের ব্যত্যয় ঘটলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

উত্তরা এলাকার বাসিন্দারা পুলিশের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। সাধারণ নাগরিকদের মতে, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের বারের অননুমোদিত কার্যক্রম জনমনে ভীতির সৃষ্টি করে। পুলিশের নিয়মিত নজরদারি থাকলে যুবসমাজকে মাদকের মরণব্যাধি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। শুক্রবার সকাল নাগাদ আটকদের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এই ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছিল। সংশ্লিষ্ট বারটির কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং এর বৈধ নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় করছে পুলিশ।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026