ক্রীড়া প্রতিবেদক
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি এবং চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ঘিরে আগামী ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে বড় স্বপ্ন দেখছেন দেশটির শীর্ষ টেনিস তারকা আলেক্সান্ডার জেভেরেভ। গত দুই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার তিক্ত স্মৃতি ভুলে এবার তরুণ ও গোছানো এক দলের হাত ধরে জার্মানরা পুনরায় সাফল্যের চূড়ায় ফিরবে বলে বিশ্বাস করেন টোকিও অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী এই অ্যাথলেট। সম্প্রতি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জাতীয় দলের সম্ভাবনা নিয়ে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঐতিহাসিকভাবে জার্মানি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দল হিসেবে পরিচিত হলেও ২০১৮ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপে তাদের পারফরম্যান্স ছিল আশানুরূপ নয়। টানা দুই আসরে গ্রুপ পর্বের বাধা টপকাতে ব্যর্থ হওয়ায় দলের সক্ষমতা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে ২৯ বছর বয়সী জেভেরেভের মতে, এবারের দলটি আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংগঠিত। তিনি মনে করেন, বর্তমান স্কোয়াডে তরুণ খেলোয়াড়দের আধিক্য থাকলেও তাদের মধ্যে জয়ের ক্ষুধা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সক্ষমতা রয়েছে, যা বড় মঞ্চে জার্মানিকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যাবে।
দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক শিরোপা অর্জনের গুরুত্ব জেভেরেভ খুব কাছ থেকে অনুভব করেছেন। পাঁচ বছর আগে টোকিও অলিম্পিকে জার্মানির ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টেনিসের পুরুষ এককে স্বর্ণপদক জয় করে তিনি অনন্য এক কীর্তি গড়েন। ব্যক্তিগত সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে সাফল্যের জন্য মানসিক দৃঢ়তা ও দলগত ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। অলিম্পিক জয়ের পর বাস্টিয়ান শোয়াইনস্টাইগারের মতো কিংবদন্তি ফুটবলাররা যেভাবে তাকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, সেই ভ্রাতৃত্ববোধ জার্মানির ক্রীড়া সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে আসছে।
ফুটবল অনুরাগী জেভেরেভের প্রিয় খেলোয়াড়দের তালিকায় নাম রয়েছে অলিভার কান, বাস্টিয়ান শোয়াইনস্টাইগার, লুকাস পোডলস্কি এবং মানুয়েল নয়ারের মতো তারকাদের। বিশেষ করে ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কারিগর টনি ক্রুসকে তিনি অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করেন। শৈশবে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে নিজ শহর হামবুর্গে বসে গ্যালারি থেকে ম্যাচ উপভোগ করার অভিজ্ঞতা এখনও তাকে শিহরিত করে। সেই আবেগ থেকেই ফুটবলের প্রতি তার এই নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন।
বর্তমানে এটিপি র্যাঙ্কিংয়ের ওপরের সারিতে থাকা এই তারকা টেনিসার নিজে এখনও গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপার অপেক্ষায় থাকলেও দেশের ফুটবল দলের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন। আগামী জুন-জুলাই মাসে যখন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ চলবে, তখন টেনিস সার্কিটে উইম্বলডন প্রতিযোগিতার ব্যস্ততা থাকবে। ফলে মাঠে বসে খেলা দেখার সুযোগ মিলবে কি না তা অনিশ্চিত থাকলেও, দূর থেকেও নিজ দেশের জন্য সমর্থন বজায় রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, অলিম্পিকের পর বিশ্বকাপই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব, যা পুরো জাতিকে একসূত্রে গেঁথে ফেলে।
আগামী ১৪ জুন কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে জার্মানি তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। গ্রুপ ‘ই’-তে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ কোত দি ভোয়া ও একুয়েডর। ফুটবলের এই মহাযজ্ঞে জার্মানির নবযাত্রার দিকে এখন তাকিয়ে আছেন জেভেরেভের মতো কোটি সমর্থক। নতুন কোচিং প্যানেল ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সংমিশ্রণে জার্মানি কতদূর যেতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।