1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক ধারা, গ্রস রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল ইরানের শাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত: নেতৃত্বে রেভল্যুশনারি গার্ডসের জেনারেলরা হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের শুল্ক থেকে রাশিয়াকে অব্যাহতি দিল ইরান উত্তরার বারে পুলিশের অভিযান: লাইসেন্সবিহীন মদ্যপানের অভিযোগে আটক ১৪০ ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে আশাবাদী টেনিস তারকা জেভেরেভ মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জোড়া চোটের ধাক্কায় রিয়াল মাদ্রিদ, ছিটকে গেলেন গুলার ও মিলিতাও সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, আপিলের ঘোষণা সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি জোটসহ ৪৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা ভারত মহাসাগরে ইরান থেকে তেল পরিবহনকারী জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনকারী নৌযান দেখলেই তা গুলি করে ধ্বংস করার জন্য মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ ট্রাম্পের

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক ধারা, গ্রস রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বস্তির আভাস দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের গ্রস বা মোট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতা ও ডলার সংকটের প্রেক্ষাপটে রিজার্ভের এই অবস্থানকে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট খাত সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত মানদণ্ড ‘বিপিএম-৬’ (ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল) অনুসরণ করে প্রকৃত বা নিট রিজার্ভের হিসাবও প্রকাশ করা হয়েছে। এই পদ্ধতি অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশের প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগে বাংলাদেশ ব্যাংক কেবল গ্রস রিজার্ভের তথ্য প্রকাশ করত, যেখানে বিভিন্ন তহবিলে বিনিয়োগ করা অর্থও অন্তর্ভুক্ত থাকত। তবে আইএমএফের ঋণের শর্ত এবং আন্তর্জাতিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এখন থেকে ব্যয়যোগ্য বা তরল বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব আলাদাভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে। বিপিএম-৬ অনুযায়ী প্রদর্শিত এই ৩০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার মূলত তাৎক্ষণিক যেকোনো আন্তর্জাতিক দায় মেটানোর জন্য সরাসরি ব্যবহারযোগ্য।

রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার নেপথ্যে প্রধানত দুটি কারণকে চিহ্নিত করেছেন অর্থনীতিবিদরা। প্রথমত, গত কয়েক মাসে বৈধ পথে প্রবাসী আয়ের বা রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য গতি লক্ষ্য করা গেছে। দ্বিতীয়ত, রপ্তানি আয়ে স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া সরকারের নেওয়া বিভিন্ন আমদানি নিয়ন্ত্রণ পদক্ষেপ ও বিলাসদ্রব্য আমদানিতে কড়াকড়ির ফলে অপ্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার বহির্গমন হ্রাস পাওয়াকেও একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, একটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাধারণত অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকা জরুরি বলে ধরা হয়। বর্তমানের এই মজুদ দিয়ে বাংলাদেশ আগামী ৫ থেকে ৬ মাসের আমদানি দায় মেটাতে সক্ষম হবে, যা নিকট অতীতের তুলনায় সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য বেশ স্বস্তিদায়ক। তবে আসন্ন মাসগুলোতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলে রিজার্ভের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রিজার্ভের এই অবস্থানকে টেকসই করতে কেবল আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ যথেষ্ট নয়। দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের জন্য সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ এবং রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের মাধ্যমে ডলারের বহুমুখী উৎস নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হুন্ডি প্রতিরোধ করে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর উৎসাহ প্রদান অব্যাহত রাখলে রিজার্ভের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।

উল্লেখ্য, করোনা পরবর্তী চাহিদা বৃদ্ধি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে পণ্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় ডলার সংকট তীব্র হয়েছিল। এর প্রভাবে বাংলাদেশের রিজার্ভে বড় ধরনের পতন ঘটলেও সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতি এবং রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ফলে বর্তমানে তা স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রত্যাশা করছে, রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের বর্তমান গতি বজায় থাকলে আগামী দিনগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার এই মজুদ আরও বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে সুসংহত করবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026