রাজনীতি ডেস্ক
দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জামায়াত জোট মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন খান এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। প্রার্থিতা ফিরে পেতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রার্থী ও তার আইনি প্রতিনিধি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য জমা পড়া জামায়াত জোট মনোনীত ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ১২ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে মনিরা শারমিনের দাখিলকৃত নথিপত্রে আইনি জটিলতা থাকায় তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত একদিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়। বৃহস্পতিবার শুনানির পর তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল বলে গণ্য করা হয়। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়সীমার আইনি বাধ্যবাধকতা পরিপালন না করায় এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কমিশন।
মনোনয়ন বাতিলের বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মনিরা শারমিন সাংবাদিকদের জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তা তার দাখিলকৃত কাগজপত্র গ্রহণ করলেও শুনানির পর্যায়ে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, যে আইনের প্রেক্ষাপটে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সেটির কোনো যৌক্তিক সামঞ্জস্য নেই। সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার লক্ষ্যে তিনি নির্বাচন কমিশনের উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মনিরা শারমিনের নিযুক্ত আইনজীবী নাজমুস সাকিব জানান, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আইনি ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে আগামী রবিবার নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক আপিল দায়ের করা হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আপিল শুনানিতে যথাযথ ব্যাখ্যা ও নথিপত্র উপস্থাপন করা হলে তার মক্কেল প্রার্থিতা ফিরে পাবেন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশের সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের ক্ষেত্রে মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি তিন কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল করার অধিকার রাখেন। নির্বাচন কমিশন আপিল শুনানি শেষে যে সিদ্ধান্ত প্রদান করবে, সেটিই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে। তবে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী চাইলে উচ্চ আদালতেও রিট করার সুযোগ পেতে পারেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের এই প্রক্রিয়াটি আইনি ও রাজনৈতিক উভয় দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ। সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের কঠোর অবস্থান এবং প্রার্থীদের আইনানুগ পদক্ষেপ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরবর্তী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতে আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার পর জানা যাবে মনিরা শারমিন নির্বাচনী লড়াইয়ে ফিরতে পারবেন কি না।