1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে মেসি ও রোনালদো ন্যাটো সম্মেলন শেষে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্ভাব্য বৈঠকের আভাস পেনাল্টি গোলে ফ্রান্সের কাছে হেরে প্যারাগুয়ের বিদায়, গর্বিত গোলরক্ষক গিল ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩ হাজার, চলছে ধসে পড়া ভবন অপসারণ সেন্ট পিটার্সবার্গের তেল টার্মিনালে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স, এমবাপ্পের পেনাল্টি গোলে প্যারাগুয়েকে বিদায় বলিউড অভিনেতা আমির খানের তৃতীয় বিবাহ কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার ড্রিবলিং সংখ্যায় পিছিয়ে পড়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিনন্দন

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের অনিয়মিত ফ্লাইটে স্থানান্তর: দক্ষিণ আফ্রিকায় অবতরণে উত্তেজনা

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৭৮ বার দেখা হয়েছে

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজা থেকে গত বৃহস্পতিবার ১৫৩ জন ফিলিস্তিনি যাত্রী নিয়ে একটি চার্টার্ড উড়োজাহাজ দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের কাছে অবতরণ করেছে। এই যাত্রীদের মধ্যে অনেকেরই প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি ছিল না, যা দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তাদেরকে বাধার মুখে ফেলেছিল। প্রায় ১২ ঘণ্টা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর স্থানীয় দাতব্য সংস্থা ‘গিফট অব দ্য গিভার্স’-এর তত্ত্বাবধানে এই যাত্রীদের উড়োজাহাজ থেকে নামার অনুমতি প্রদান করা হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার সীমান্ত সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, ফিলিস্তিনি যাত্রীদের পাসপোর্টে গাজার বাইরে বের হওয়ার স্ট্যাম্প বা স্লিপ ছিল না। এছাড়াও, তারা ঠিক বলতে পারেননি কোথায় থাকবেন বা কতদিন দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকবেন। পরে ‘গিফট অব দ্য গিভার্স’-এর ব্যবস্থা অনুযায়ী সরকার তাদের উড়োজাহাজ থেকে নামার অনুমতি দেয়। এর মধ্যে ২৩ জন পরে অন্য দেশে চলে যান।

ফিলিস্তিনি যাত্রীদের গাজার দক্ষিণে অবস্থিত রাফা থেকে কারেম আবু সালেম ক্রসিংয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের তল্লাশি করে এবং কোনো স্ট্যাম্প ছাড়া রামোন বিমানবন্দরে স্থানান্তর করে। এরপর রোমানিয়ান একটি চার্টার্ড উড়োজাহাজে তারা কেনিয়ার নাইরোবি হয়ে জোহানেসবার্গে পৌঁছায়। উড়োজাহাজে থাকা যাত্রীদের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। প্রত্যেক ফ্লাইটে উঠার জন্য প্রতি শিশুর বা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির কাছ থেকে ১,৪০০ থেকে ২,০০০ ডলার নেওয়া হয়েছে।

ফ্লাইটের পেছনে রয়েছে ‘আল-মাজদ ইউরোপ’ নামের সংস্থা। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এটি ২০১০ সালে জার্মানিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থার কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে মানুষজনকে সরিয়ে নেওয়া। এটি পরিচালনা করছেন টোমার জানার লিন্ড, যিনি ইসরায়েলি-এস্তোনিয়ান দ্বৈত নাগরিক। সংস্থার সঙ্গে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ‘স্বেচ্ছাসেবী অভিবাসন ব্যুরো’ নামের ইউনিটের সমন্বয় আছে, যা ২০২৫ সালের প্রথম দিকে গঠিত হয়। এই ইউনিট ফিলিস্তিনিদের গাজার মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত করার নীতি কার্যকর করে।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, এই ফিলিস্তিনিদের রহস্যজনকভাবে একটি উড়োজাহাজে নিয়ে আসা হয়েছে এবং মনে হচ্ছে তাঁদের গাজার বাইরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দেশের গোয়েন্দা সংস্থা এই ঘটনাটি তদন্ত করছে।

ফিলিস্তিনি দূতাবাস এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, একটি ‘অনিবন্ধিত ও বিভ্রান্তিকর’ সংস্থার মাধ্যমে ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা গাজার জনগণের মানবিক বিপর্যয়ের সুযোগ নিয়েছে। সংস্থা পরিবারগুলোর সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে অনিয়মিতভাবে তাদের ভ্রমণ নিশ্চিত করেছে। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে যে গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের এমন নেটওয়ার্কের বিষয়ে সাবধান থাকা উচিত, যারা ইসরায়েলের স্বার্থ অনুযায়ী তাঁদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে চায়।

এর আগে এ ধরনের ফ্লাইটের নজির রয়েছে। গত ২৭ মে অনুরূপ একটি উড়োজাহাজ ফ্লাইটে ৫৭ জন ফিলিস্তিনি স্থানান্তরিত হয়েছিল। তৎকালীন ফ্লাইটে ফিলিস্তিনিদের রোমানিয়ান চার্টার্ড উড়োজাহাজে ওঠানো হয় এবং তারা বুদাপেস্ট ও পরবর্তীতে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

আল–মাজদ ইউরোপের ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে যে, তারা গাজার হাসপাতালগুলোতে কর্মরত চিকিৎসকদেরও আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের জন্য স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেছে। তবে এ তথ্যের যথাযথতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা যায়নি। সংস্থাটির ওয়েবসাইট এবং অনলাইন কার্যক্রম নিয়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘গিফট অব দ্য গিভার্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমতিয়াজ সলিম্যানের মতে, আল-মাজদ একটি ছায়া সংস্থা হিসেবে কাজ করছে এবং এটি দক্ষিণ আফ্রিকায় আসা দ্বিতীয় ফ্লাইট। এর আগে গত ২৮ অক্টোবরও ১৭০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে নিয়ে একটি উড়োজাহাজ আসেছিল।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026