বাংলাদেশ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে একটি বিশেষ অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত শনিবার এক আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার, দেশের জনগণ এবং নিজের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে এই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান সরকারপ্রধান। চিঠিতে দুদেশের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন শনিবার এই চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক এই মাইলফলক উদযাপনে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাস্তবমুখী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে আগামী দশকগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র প্রগতি ও অগ্রযাত্রার পথে আরও এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী চিঠিতে উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ দেশের গণতান্ত্রিক ও উন্নয়নযাত্রায় এক বিশ্বস্ত বন্ধু এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। গত পাঁচ দশকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক কেবল প্রথাগত কূটনৈতিক বলয়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা বাণিজ্য, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং জনগণের মধ্যকার নিবিড় যোগাযোগের (পিপল-টু-পিপল কনট্যাক্ট) মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও বহুমুখী অংশীদারত্বে উন্নীত হয়েছে।
চিঠিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সম্পর্কের একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। বিশেষ করে চলতি বছরের শুরু থেকেই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, জ্বালানি খাতে কৌশলগত সহযোগিতা এবং নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উভয় দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ও দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এই ধারাকে অব্যাহত রেখে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার আহ্বান জানানো হয় চিঠিতে।
একই সাথে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিক তথা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন ও মানবিক সহায়তার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংকটের সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই উদারতা ও ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
বাংলাদেশ সরকার ও মার্কিন প্রশাসনের মধ্যকার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়ে চিঠিতে বলা হয়, আগামী দিনগুলোতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোতে অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ়, গভীর ও সম্প্রসারিত করতে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাবে বাংলাদেশ। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সুস্থতা, দীর্ঘায়ু এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সার্বিক সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করেন।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে বাংলাদেশের এই শীর্ষ পর্যায়ের যোগাযোগ দুই দেশের বাণিজ্যিক ও ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল এবং ফলপ্রসূ করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।