ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রতিকূল আবহাওয়া আর প্রতিপক্ষের শারীরিক ফুটবলকে পরাস্ত করে কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নকআউট পর্বের ম্যাচে দক্ষিণ আমেরিকার দল প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছে ফরাসিরা। দলের পক্ষে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।
প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রার বৈরী আবহাওয়ায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শুরুর পর থেকেই একদিকে যেমন ফরাসিদের আক্রমণের ধার দেখা গেছে, ঠিক অন্যদিকে প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগও ছিল সমানভাবে দুর্ভেদ্য। ম্যাচের প্রথমার্ধে ফরাসি ফরোয়ার্ডরা বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণভাগের কারণে গোল করতে ব্যর্থ হয়। তবে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে ফরাসিদের হয়ে একমাত্র ও জয়সূচক গোলটি করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই গোলের ব্যবধান ধরে রেখেই শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।
ম্যাচটিতে ফ্রান্সকে কেবল আবহাওয়ার প্রতিকূলতার সঙ্গেই লড়াই করতে হয়নি, বরং প্যারাগুয়ের রক্ষণাত্মক ও শারীরিক ফুটবলের বিরুদ্ধেও শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হয়েছে। পুরো ৯০ মিনিটজুড়ে প্যারাগুয়ের ফুটবলাররা অত্যন্ত আগ্রাসী মনোভাব প্রদর্শন করেন। ঘন ঘন ফাউল, কড়া ট্যাকল এবং মাঠের মধ্যকার সংঘর্ষের মাধ্যমে ফরাসি আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত করার চেষ্টা চালানো হয়। তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতেও মাথা ঠান্ডা রেখে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা ধরে রাখতে সক্ষম হয় দিদিয়ে দেশমের শিষ্যরা।
খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্যারাগুয়ের এমন নেতিবাচক কৌশল নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। প্রতিপক্ষের আগ্রাসী মনোভাবের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, ফ্রান্স যেকোনো পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের ফুটবল খেলতে প্রস্তুত। ম্যাচের আগের প্রস্তুতি সম্পর্কে এমবাপ্পে বলেন, “আমরা জানতাম মাঠের ভেতরে কী ধরনের পরিস্থিতি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। আমার মনে হয়, দলের প্রত্যেকে আজ অত্যন্ত পরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছে এবং পরিস্থিতি খুব ভালোভাবেই সামাল দিয়েছে।”
প্রতিপক্ষের কৌশল ও নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে এমবাপ্পে আরও যোগ করেন, “ওরা হয়তো ভেবেছিল আমরা মাঠে শুধু আভিজাত্যপূর্ণ ও চোখধাঁধানো কৌশল দেখাব। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। জয়ের জন্য যদি প্রয়োজন হয়, তবে আমরাও কুৎসিত ও কঠোর ফুটবল খেলতে জানি। আজ আমরা মাঠের পরিস্থিতি অনুযায়ী যা করা দরকার, ঠিক সেটাই করেছি।” এমবাপ্পের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, আসন্ন কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচগুলোর জন্য ফরাসি দল মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত।
ম্যাচটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উজবেক রেফারি ইলগিজ তানতাশেভকে বেশ বেগ পেতে হয়। মাঠের খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত আগ্রাসন রোধে তিনি ম্যাচে মোট চারটি হলুদ কার্ড প্রদর্শন করেন। এর মধ্যে ফরাসি দলের খেলোয়াড়দেরই তিনটি হলুদ কার্ড দেখতে হয়, যা আগামী ম্যাচগুলোর জন্য কিছুটা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার মাধ্যমে ফ্রান্স বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার দৌড়ে আরও একধাপ এগিয়ে গেল, অন্যদিকে লড়াকু ফুটবল খেলেও আসর থেকে বিদায় নিতে হলো প্যারাগুয়েকে।