1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে মেসি ও রোনালদো ন্যাটো সম্মেলন শেষে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্ভাব্য বৈঠকের আভাস পেনাল্টি গোলে ফ্রান্সের কাছে হেরে প্যারাগুয়ের বিদায়, গর্বিত গোলরক্ষক গিল ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩ হাজার, চলছে ধসে পড়া ভবন অপসারণ সেন্ট পিটার্সবার্গের তেল টার্মিনালে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স, এমবাপ্পের পেনাল্টি গোলে প্যারাগুয়েকে বিদায় বলিউড অভিনেতা আমির খানের তৃতীয় বিবাহ কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার ড্রিবলিং সংখ্যায় পিছিয়ে পড়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিনন্দন

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩ হাজার, চলছে ধসে পড়া ভবন অপসারণ

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৯৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। গত শনিবার (৪ জুলাই) দেশটির সরকারি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দশ দিন পার হলেও এখনও বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার নাগরিক। ১০ দিন ধরে চলা তল্লাশি অভিযান শেষে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে শুরু করায় এখন ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ধসে পড়া ভবন ও ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।

গত মাসের শেষভাগে ভেনেজুয়েলায় দফায় দফায় ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। লাতিন আমেরিকার সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই দুর্যোগে দেশটির রাজধানী কারাকাসের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকা লা গুয়াইরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের তীব্রতায় ওই অঞ্চলের অসংখ্য বহুতল আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। ধসে পড়া এসব ভবনের নিচে চাপা পড়েই অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে জীবিত উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বা ‘গোল্ডেন আওয়ার’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও চলতি সপ্তাহের শুরুতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। শনিবার আন্তর্জাতিক দলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অনুসন্ধান অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ফায়ার বিভাগ, ফ্লোরিডা ও ভার্জিনিয়া থেকে আসা বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দলগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক তল্লাশিতে আর কোনো জীবিত মানুষের সন্ধান না পাওয়ায় তারা নিজ দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

উদ্ধার অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি উপলক্ষে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর সদস্যদের বিশেষ সম্মাননা পদক প্রদান করেন। একই সাথে উদ্ধারকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরগুলোকেও রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করা হয়। এ সময় অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেশটিতে চলমান গভীর শোকের কথা উল্লেখ করে বলেন, বহু পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তিনি দাবি করেন, দুর্যোগের পরপরই হাজার হাজার সেনাসদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাকে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত করা হয়েছিল।

তবে সরকারের এই দাবির বিপরীতে স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অনেক বাসিন্দার অভিযোগ, ভূমিকম্পের পর সরকারি উদ্ধার তৎপরতা ছিল অত্যন্ত ধীরগতির। আন্তর্জাতিক দলগুলো পৌঁছানোর পূর্বে স্থানীয় মানুষজন নিজেদের উদ্যোগে ও পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ছাড়াই হাত দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা চালান। বর্তমানে উদ্ধার অভিযান বন্ধ হলেও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ মানুষ স্বজনদের মরদেহ খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ফ্রান্সিসকো সাসকিয়া জানান, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন হয়ে পড়েছে। শনিবারও লা গুয়াইরা থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলা সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই জোড়া ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত ১৬ হাজারের বেশি মানুষ সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বিপুলসংখ্যক গৃহহীন মানুষ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, স্থানীয় হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত রোগীদের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত চাপে হিমশিম খাচ্ছে। চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা জারি করে বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ও পর্যাপ্ত স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানি এবং সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে খুব কম সময়ের মধ্যে সেখানে বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক ও পানিবাহিত রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026