খেলাধূলা ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচে বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে প্যারাগুয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও পেনাল্টির একমাত্র গোলে লাতিন আমেরিকার দলটির স্বপ্নভঙ্গ হয়। তবে পরাজয়ের পরও নিজেদের লড়াকু পারফরম্যান্স এবং মাঠের পারদর্শিতা নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। ম্যাচ শেষে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি দাবি করেন, বিতর্কিত ওই পেনাল্টির সিদ্ধান্তটি না হলে ম্যাচের ফলাফল ভিন্ন হতে পারত।
শনিবারের এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ে প্রথমার্ধ থেকেই প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে শক্তিশালী ফ্রান্স। ম্যাচের ৭০তম মিনিটে ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে সফল পেনাল্টি শটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। শেষ পর্যন্ত এই একমাত্র গোলটিই দুই দলের মধ্যে ব্যবধান গড়ে দেয় এবং ফ্রান্সকে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে দেয়। অন্যদিকে, পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ খেলা প্যারাগুয়েকে বিদায় নিতে হয় নকআউট পর্বের প্রথম ধাপ থেকেই।
প্যারাগুয়ে ম্যাচটি হারলেও ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছেন দলটির গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ফরাসি স্ট্রাইকারদের একের পর এক জোরালো আক্রমণ রুখে দিয়ে প্যারাগুয়েকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন তিনি। বিশেষ করে খেলার শেষভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া নিশ্চিত গোলের সুযোগ অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন গিল। পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত ও অতিমানবীয় নৈপুণ্য প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ পরাজিত দলের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ম্যাচসেরার পুরস্কার লাভ করেন এই প্যারাগুইয়ান গোলরক্ষক।
ম্যাচ পরবর্তী আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে অরল্যান্ডো গিল দলের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, প্যারাগুয়ে ফুটবল দল মাথা উঁচু করেই এবারের বিশ্বকাপ মিশন শেষ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্ধারিত সময়ের পেনাল্টিটি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করেছে। সেটি না হলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ও ফলাফল তাদের পক্ষে আসার যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিল।
বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের এই যাত্রাকে দলের তরুণ ফুটবলারদের জন্য একটি বড় শিক্ষণীয় অধ্যায় হিসেবে দেখছেন গিল। তিনি জানান, ফ্রান্সের মতো বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানীয় এবং শিরোপাপ্রত্যাশী দলের বিপক্ষে প্রথমার্ধে সফলভাবে আক্রমণ ঠেকিয়ে রাখা তাদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। দলের অনেকেরই এটি প্রথম বিশ্বকাপ হওয়ায়, এই ধরনের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে প্যারাগুয়ে ফুটবলকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিপক্ষ ফ্রান্সের শক্তির কথা স্বীকার করে প্যারাগুইয়ান এই গোলরক্ষক তাদের অভিনন্দন জানান। ফরাসি দলের গতিময় ফুটবল ও ট্যাকটিক্যাল শক্তির প্রশংসা করার পাশাপাশি তিনি নিজের সতীর্থদের লড়াকু মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। মাঠে নিজেদের সর্বোচ্চ উজাড় করে দেওয়ার জন্য সতীর্থদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন গিল।
প্যারাগুয়েকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের শেষ আট তথা কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করা ফ্রান্সের পরবর্তী লক্ষ্য এখন সেমিফাইনাল। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকতে পরবর্তী ম্যাচে ফরাসিরা মুখোমুখি হবে আফ্রিকার পরাশক্তি মরক্কোর। অন্যদিকে, বিদায় নিলেও এই ম্যাচ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনের জন্য নতুন দল গঠনের পরিকল্পনা করছে লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধি প্যারাগুয়ে।