1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০২:২৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের সম্মাননা: প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্মৃতি স্মারক গ্রহণ করলেন প্রতিনিধিরা চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যৌথ প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার ও ইউক্রেনের জন্য নতুন সামরিক তহবিল ঘোষণা ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার চেষ্টা সংক্রান্ত প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া’ বলল ইসরায়েল বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও প্রাণহানি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন টেইলর সুইফট ও ট্র্যাভিস কেলসি ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে কলম্বিয়া রুদ্ধশ্বাস জয়ে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা, কেপ ভার্দেও প্রশংসা করলেন মেসি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে আজ বিশেষ স্মরণসভা, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নাটকীয় জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন কলকাতায় ‌‘পার্টি অফিস’ খুলে আওয়ামী লীগের শেষরক্ষার চেষ্টা

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৪২ বার দেখা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক

 

কলকাতা উপনগরীর এক ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় গড়ে উঠেছে এক রহস্যময় রাজনৈতিক ঘাঁটি। শত শত অফিস ও দোকানে গমগম করা এলাকায় কয়েক মাস ধরে যাতায়াত করছেন এমন কিছু ব্যক্তি, যাদের একসময় বাংলাদেশে দেখা যেত রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনগুলোর একাংশের এই নেতারা এখন এই অঞ্চলের বাসিন্দা।

বহুল আলোচিত এই বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সটির একটি ভবনের অষ্টম তলায় ‘দপ্তর’ খুলেছে পলাতক আওয়ামী লীগ। কিন্তু বাইরে থেকে কেউ বুঝতেই পারবে না যে, এখানে বাংলাদেশের একসময়কার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলটির বিদেশভিত্তিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সাইনবোর্ড নেই, নেই শেখ মুজিবুর রহমান কিংবা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার কোনো ছবি। ভেতরটাও ঠিক যেন কোনো সাধারণ অফিসঘর। চেয়ার-টেবিলগুলোও আগে যে প্রতিষ্ঠানটি এই অফিস ব্যবহার করত, তাদেরই রেখে যাওয়া। মাত্র পাঁচশ’ থেকে ছয়শ’ স্কয়ার ফুট জায়গার এই অফিস ঘরটিতে হয় দলীয় বৈঠক কিন্তু খুব বড় পরিসরে কিছু হলে ভরসা ব্যাঙ্কোয়েট হল বা রেস্তোরাঁর আলাদা অংশ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পালানোর পর একে একে কলকাতা এবং আশপাশের এলাকায় জড়ো হতে থাকেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বহু নেতা। কেউ কেউ ভাড়া নেন ফ্ল্যাট। কেউ আবার সপরিবারে গেছেন সেখানে। জানা যাচ্ছে, অন্তত ৮০ জন সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্য, মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা নেতারা এই অঞ্চলে অবস্থান করছেন। এই তালিকায় রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা এবং সরকারি কর্মকর্তারাও।

তাদের মধ্যে অনেকে প্রথমে ভারতে অবস্থান করলেও পরে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া কিংবা আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন। কিন্তু যারা কলকাতায় রয়ে গেছেন, তাদের যাতায়াত নিয়মিতই ‘পার্টি অফিসে’। নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই, প্রয়োজনে অফিসে আসেন, আবার অনেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দলীয় কার্যক্রমে অংশ নেন।

এই পার্টি অফিসের কার্যক্রম বা অস্তিত্ব সম্পর্কে স্থানীয় সাধারণ মানুষের যেমন জানার সুযোগ নেই। তেমনি দলেরও বহু স্তরের কর্মীরাও এর সম্পর্কে জানেন না। কিন্তু ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া যে এই অফিস গড়ে উঠতে পারত না, তা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নিজেরাই স্বীকার করছেন।

এক বছর ধরে কার্যত ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে চলছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম। হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, লাইভ স্ট্রিম– নানা ডিজিটাল মাধ্যমে দেশের ভেতরে থাকা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন কলকাতা ও দিল্লির নেতারা। বিভিন্ন নির্দেশনা, রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। মাঝে মাঝে লাইভ আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন শেখ হাসিনাও। ভারতে থাকলেও নিজস্ব পরিসরে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট রেখেছেন নেতারা।

গত ৩১ জুলাই দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতাদের একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে স্থান বা আলোচনার বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। এর বাইরে দলীয় সিদ্ধান্ত বা অবস্থান নির্ধারণে ভার্চুয়াল মাধ্যমেই চলছে আলোচনা ও দিকনির্দেশনা।

এদিকে ছাত্রলীগের মতো নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতারাও রয়েছেন ভারতে।

আওয়ামী লীগের ভারতে আশ্রয় নেওয়া এই নেতাদের অর্থায়ন কীভাবে হয়, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। নেতারা জানান, দেশে এবং বিদেশে থাকা শুভাকাঙ্ক্ষীরাই সহায়তা করছেন। কারও পরিবার প্রবাসে থেকে অর্থ পাঠাচ্ছেন, আবার অনেকে নিজেদের সঞ্চয়ে খরচ চালাচ্ছেন। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত জীবনযাত্রা থেকে বেরিয়ে এসে এখন কেউ গণপরিবহন ব্যবহার করছেন, কেউ বা একসঙ্গে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে কাটাচ্ছেন দিন।

তবে দলটি দেশে ফিরে আসার স্বপ্ন এখনও ছাড়েনি। পলাতক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদের বলেন, ‘লড়াই ছাড়া উপায় নেই। দিনক্ষণ ঠিক করে রাজনীতি হয় না।’ দলটি এখন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পূর্তিতে তার ব্যর্থতাগুলোকেই সামনে এনে জনমত তৈরি করতে চাইছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026