জাতীয় ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির অনলাইন আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কারিগরি জটিলতাসহ নানা প্রতিকূলতায় বহু যোগ্য ও প্রান্তিক আবেদনকারী নির্ধারিত সময়ে আবেদন সম্পন্ন করতে না পারায় সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বিভিন্ন কর্মসূচির আবেদনের ক্ষেত্রে এ সময় বৃদ্ধি কার্যকর হবে। এর আগে এই কর্মসূচিগুলোর জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণের সময়সীমা নির্ধারিত ছিল ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত। নতুন নির্দেশনার ফলে প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আবেদনকারীরা নির্ধারিত পোর্টালে গিয়ে অতিরিক্ত সময় পাচ্ছেন।
বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, এই সময় বৃদ্ধির আওতায় রয়েছে সরকারের নিয়মিত সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের প্রধান খাতগুলো। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি। পাশাপাশি অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশেষ সুবিধাভোগী শ্রেণি—হিজড়া জনগোষ্ঠী, বেদে সম্প্রদায়, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং চা-শ্রমিকদের নিয়মিত ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির আবেদনও এই বর্ধিত সময়সীমার আওতাভুক্ত থাকবে।
সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচিগুলোর আবেদন কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হওয়ায় মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটের অভাব, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং অনলাইন সফটওয়্যারের সার্ভার জটিলতার কারণে বহু প্রকৃত উপকারভোগী পূর্বনির্ধারিত ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হন। মাঠপর্যায়ের সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা এবং আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে আসা এসব বাস্তব সমস্যা ও আবেদনের প্রেক্ষিতে অধিদপ্তর সময়সীমা বৃদ্ধির যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেয়।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, ভাতা বা শিক্ষা উপবৃত্তির জন্য আগ্রহী যোগ্য ব্যক্তিদের সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালের (dss.bhata.gov.bd/online-application) মাধ্যমে আবেদন দাখিল করতে হবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে সরাসরি আবেদন গ্রহণ করা হবে না। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, আবেদন গ্রহণের সময়সীমা বৃদ্ধি ছাড়া ভাতা প্রাপ্তির যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং বাছাই প্রক্রিয়ার অন্যান্য সকল পূর্বঘোষিত শর্ত ও দিকনির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (সামাজিক নিরাপত্তা) মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় দেশের সকল বিভাগীয় পরিচালক, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাদের এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়ে যোগ্য ব্যক্তিরা যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক সুরক্ষা বলয়কে শক্তিশালী এবং স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল আবেদন প্রক্রিয়া কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তবে ডিজিটাল অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত দুস্থরা যেন সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সে ক্ষেত্রে আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধির এই পদক্ষেপ বাস্তবমুখী ও জনবান্ধব বলে বিবেচিত হচ্ছে। বর্ধিত সময়ের মধ্যে স্থানীয় সমাজসেবা দপ্তর ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোর সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে অধিকসংখ্যক সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সুরক্ষা বলয়ে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে।