সারাদেশ ডেস্ক
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে অন্তত সাতজন যাত্রী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বেজগাঁও এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানায়, বেলা ১০টা ৩৫ মিনিটে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনে দুর্ঘটনার সংবাদ পৌঁছায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের জেলা বরগুনার পাথরঘাটা থেকে ছেড়ে আসা ‘রাজিব পরিবহন’-এর একটি দূরপাল্লার বাস রাজধানী ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। বাসটি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বেজগাঁও এলাকা অতিক্রম করার সময় দ্রুতগতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। একপর্যায়ে বাসটি সড়কের নিরাপত্তা রেলিংয়ে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা খায় এবং মহাসড়কের ওপর উল্টে যায়।
দুর্ঘটনায় বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে সাতজন গুরুতর আহত হন। উদ্ধারকর্মীরা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সযোগে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান।
আহত ব্যক্তিরা হলেন—পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা অর্চনা মিলি (২৫), কানিজ ফাতেমা (২৩), রাজু (১৭), নুরনবী (৩০), ইব্রাহিম (৪০) ও মরিয়ম (৫৫) এবং বরগুনা জেলার বাসিন্দা সাউদা বেগম (৩৫)। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং অন্যদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত ও সমন্বিত তৎপরতার কারণে আহতদের কালবিলম্ব না করে চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সংশ্লিষ্ট অংশে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরবর্তীতে রেকার দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
হাইওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত গতি নাকি যান্ত্রিক কোনো ত্রুটির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে দুর্ঘটনার সার্বিক কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।