তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভুয়া তথ্য, অপতথ্য ও ক্ষতিকর কনটেন্টের বিস্তার রোধে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সামাজিক সংহতি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
সভায় মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইন্টারনেটের দ্রুত প্রসার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে একটি চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়াচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সামাজিক সংহতি এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি জানান, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে তৃণমূলের সাধারণ নাগরিকদের পক্ষ থেকেও প্রতিদিন ভুয়া ও সন্দেহজনক অনলাইন কনটেন্ট নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ আসছে। এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রযুক্তিগত কাঠামো শক্তিশালীকরণে কাজ করে যাচ্ছে।
তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, অনলাইনে প্রাপ্ত যেকোনো তথ্য প্রকাশ বা প্রচারের আগে সেটির বিশ্বাসযোগ্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা জরুরি। মূলধারার গণমাধ্যমের এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে কোনো অসত্য তথ্য সমাজে আতঙ্ক বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। তিনি নাগরিক পর্যায় থেকে শুরু করে সব স্তরে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের (ফ্যাক্ট-চেকিং) একটি সুদৃঢ় সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর তাগিদ দেন।
আলোচনা সভায় শিশুদের ডিজিটাল সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোকপাত করা হয়। মন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তার ঘটায় শিশু-কিশোররা সাইবার বুলিং ও ক্ষতিকর কনটেন্টের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পারিবারিকভাবে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। এ লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), ইউনেস্কো এবং গণমাধ্যমকে একযোগে কৌশলগত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
বক্তারা সভায় সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল লিটারেসি বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যমের পেশাদারিত্ব বজায় রাখার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনলাইন স্পেস নিরাপদ রাখতে প্রযুক্তিগত নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা এবং নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।