বাংলাদেশ ডেস্ক
দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় এবং জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দিনের সরকারি সফরে কাতারের রাজধানী দোহার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি প্রতিনিধিদলসহ দোহার উদ্দেশে রওনা হন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে, ১৯ আগস্ট রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এই উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বা প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ সরকারের নীতি-নির্ধারণী মহলের শীর্ষ প্রতিনিধিরা। প্রতিনিধিদলের এই গঠন থেকে স্পষ্ট যে, সফরে জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ এবং শ্রমবাজার সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে।
সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের শীর্ষ নেতৃত্ব, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জ্বালানি ও বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রীদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
বিশেষ করে, বর্তমান আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের প্রেক্ষাপটে কাতারের কাছ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নবায়ন ও সরবরাহ বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন। বাংলাদেশ তার ক্রমবর্ধমান শিল্প খাত ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় জ্বালানি চাহিদা মেটাতে কাতারের এলএনজি সরবরাহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই জ্বালানি সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি এই সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার হিসেবে কাতারে কর্মরত লাখ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীর স্বার্থরক্ষা, কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের মতো বিষয়গুলো দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় জোরালোভাবে উত্থাপিত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে কাতারি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে দেশটির ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশ কাতারের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের এই সফর দুই দেশের বিদ্যমান কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে একটি নতুন মাত্রায় উন্নীত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।