সারাদেশ ডেস্ক
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জাতীয় মৎস্য পক্ষের আলোচনা সভায় দেশের বিদ্যুৎ খাত, কৃষি ব্যবস্থাপনা এবং পানিসম্পদ সংরক্ষণে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। রবিবার সকালে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি জানান, অতীতের অনিয়ম এবং চলমান বৈশ্বিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বর্তমান প্রশাসন সংকট উত্তরণে বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিদ্যুৎ সংকট দূরীকরণে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিগত সময়ে বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের কারণে তৈরি হওয়া কাঠামোগত দুর্বলতার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নতুন সরকারকে এই ধরনের কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা—বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির সংকটের মতো বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী এবং জাতীয় পর্যায়ে যে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং দেশের শীর্ষ পর্যায় থেকে সার্বিক বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতির ওপর আলোকপাত করে তিনি জানান, প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ব্যক্তিপর্যায়ের উদ্যোক্তা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বয়ে বৃহৎ পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত হবে এবং চলমান বিদ্যুৎ ঘাটতি বহুলাংশে নিরসন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কৃষি খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখা অপরিহার্য। তবে অতীতে নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু ডিলার অসাধু উপায়ে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় স্থানীয় প্রশাসনকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের স্বার্থহানি ঘটিয়ে সার নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজি বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাজারে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে যোগ্য ও দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে নতুন সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পানিসম্পদ ও মৎস্য উৎপাদনের পারস্পরিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ পুষ্টি ও আমিষের জোগান নিশ্চিত করতে মৎস্য খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মৎস্য উৎপাদনের সুযোগ ও পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সারাদেশে নদী ও খাল খনন কর্মসূচি বেগবান করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও নদীভাঙন রোধে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির অংশ হিসেবে নদীর তীরে ফলজ ও বনজ বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি ভাঙন প্রতিরোধী বিন্যা ঘাস রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন নদীর নাব্যতা সংরক্ষিত হবে, অন্যদিকে প্রাকৃতিক মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা সহজ হবে।
আলোচনা সভার পূর্বে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। প্রতিমন্ত্রী স্বয়ং র্যালিতে অংশ নেন। আলোচনা অনুষ্ঠানে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল হালিমসহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা জেলার জলাশয় সংরক্ষণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং মৎস্যজীবীদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।