আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও এর আশপাশের অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহত্তম ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এই হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় রুশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। হামলায় মস্কো অঞ্চলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও একটি বড় বাণিজ্যিক গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিওভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানান, মস্কোর পোডলস্ক এলাকায় ড্রোন আঘাত হানলে ৮৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ প্রাণ হারান। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন, যাদের তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল ও জরুরি সেবা বিভাগের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।
হামলার শিকার অন্যতম প্রধান স্থাপনা হলো রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন কেনাকাটার প্ল্যাটফর্ম ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’-এর একটি বিশাল গুদাম। মস্কোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অদূরে অবস্থিত দোমোদেদোভো শহরের সন্নিকটে এই গুদাম কমপ্লেক্সটি অবস্থিত। ড্রোন হামলার পরপরই কোলেডিনো এলাকার ওই গুদামে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং সেখান থেকে আকাশে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। অগ্নিনির্বাপক বাহিনী দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া আশপাশের অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোতেও আংশিক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ইউক্রেনীয় সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি, সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটি রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। কিইভের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মস্কোর সামরিক অভিযানের অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়ার কৌশলগত অংশ হিসেবেই এসব স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী এলাকা এবং রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সামরিক সহায়তা কেন্দ্রগুলোকে বিচ্ছিন্ন করতে সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন হামলার পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে ইউক্রেনের ড্রোনগুলো প্রতিহত করেছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ড্রোন শনাক্ত ও ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার ওপর পড়ায় ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে মস্কোর দাবি।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড এবং বিশেষ করে রাজধানী মস্কোকে লক্ষ্য করে অব্যাহত ড্রোন হামলা চলমান যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত মনস্তাত্ত্বিক চাপ বৃদ্ধি করতেই কিইভ এ ধরনের আক্রমণ বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার চলমান সংঘাত আরও তীব্র রূপ ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।