বাংলাদেশ ডেস্ক
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে জাতীয় উন্নয়ন ও সামগ্রিক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আস্থা রাখার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববার পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যানবাড়ি ঘাট এলাকায় আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য এমন এক অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যার মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও গ্রামীণ সমাজ সরাসরি উপকৃত হবে। এর আগে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং স্থানীয় পর্যায়ের খামারিদের মাঝে পোনা বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন তিনি। মৎস্যসম্পদ সম্প্রসারণের উদ্যোগকে বৃহত্তর কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অংশ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বড় বড় নদী ও খননকৃত খালে মাছ চাষের অনুকূল পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে দেশের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। সরকার সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
নারী শিক্ষার প্রসারে সরকারের নীতিগত অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নারী শিক্ষাকে অবৈতনিক করার পূর্বতন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার নারীদের স্নাতক (অনার্স) পর্যায় পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর যাবতীয় ব্যয়ভার রাষ্ট্র বহন করবে। একই সঙ্গে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি কার্যক্রম জোরদার এবং দেশের প্রায় এক কোটি ২০ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য বার্ষিক বিনামূল্যে নতুন পাঠ্যপুস্তক বিতরণের পাশাপাশি পোশাক ও ব্যাগ সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করার অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি পরিবারের নারীপ্রধান বা মায়ের হাতে এই কার্ড পৌঁছানোর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা, সার, বীজ ও কীটনাশক নিশ্চিত করতে ‘কৃষি কার্ড’ কর্মসূচি কার্যকর করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি আলেম, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তরুণ প্রজন্মকে পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তুলতে তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি।
দেশের চলমান অর্থনৈতিক রূপান্তর ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অপরিহার্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে আর্থিক সম্পদ পাচার ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে যে ক্ষতি হয়েছে, তা রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে সরকার আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে ১০ বছর মেয়াদি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।
উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম ব্যাহত করার যেকোনো অপতৎপরতা বা বিশৃঙ্খলা সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত সরকারের মূল দায়িত্ব জনগণের মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। গণতান্ত্রিক ধারা ও উন্নয়ন ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখতে তিনি সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। পাকুন্দিয়ার জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী কটিয়াদীতে একটি হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান।