জাতীয় ডেস্ক
গত জুলাই মাসে সারাদেশে ৪৪১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৮ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৫৩৯ জন। এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সর্বাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) সড়ক দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত এক আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদনে দেশের সড়ক নিরাপত্তার সার্বিক পরিস্থিতি ও দুর্ঘটনার বিভিন্ন তথ্যচিত্র তুলে ধরা হয়।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত মাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে ১২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০৬ জন নিহত এবং ১৪৬ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বিভাগ; এ বিভাগে ১০৪টি দুর্ঘটনায় ১০১ জন নিহত এবং ১২২ জন আহত হন। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৫৬টি দুর্ঘটনায় ৫৭ জন নিহত ও ৪২ জন আহত হয়েছেন। খুলনা বিভাগে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৩৯ জনের মৃত্যু ও ৮৬ জন আহত হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।
অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রংপুর বিভাগে ৫০টি দুর্ঘটনায় ৫৪ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন। ময়মনসিংহ বিভাগে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৯ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হন। বরিশাল বিভাগে ২১টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত ও ৫৩ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে সিলেট বিভাগে ১৭টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন এবং আহত হয়েছেন ৫৩ জন।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে সংঘটিত দুর্ঘটনাগুলোতে মোট ৬৭৩টি যানবাহন জড়িত ছিল। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক বাহন ছিল ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান—১৪২টি। এছাড়া ১২৪টি মোটরসাইকেল, ১০৬টি বাস বা মিনিবাস, ৫৭টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৩৫টি পিকআপ, ২৮টি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ২১টি ইজিবাইক, ২০টি ভ্যান, ১৮টি মোটরকার বা জিপ, ৮টি মাইক্রোবাস, ৮টি ট্রাক্টর, ৫টি অ্যাম্বুলেন্স এবং ১০১টি অন্যান্য যানবাহন এসব দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
যানবাহনভিত্তিক প্রাণহানির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। আলোচ্য সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ ১০৯ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর এক-চতুর্থাংশের বেশি। এছাড়া ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান দুর্ঘটনায় ৫৬ জন, বাস বা মিনিবাস দুর্ঘটনায় ৪৫ জন এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা দুর্ঘটনায় ৪০ জন মারা গেছেন। পিকআপ দুর্ঘটনায় ১৬ জন, ইজিবাইকে ১৫ জন, ব্যাটারিচালিত রিকশায় ১৪ জন, ভ্যানে ১২ জন, মোটরকার বা জিপে ৮ জন, মাইক্রোবাসে ৫ জন, ট্রাক্টরে ৪ জন এবং অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় ৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। পাশাপাশি অন্যান্য যানবাহনের দুর্ঘটনায় আরো ৯১ জন নিহত হয়েছেন।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে অযান্ত্রিক ও ধীরগতির যানবাহনের অবাধ চলাচল, অতিরিক্ত গতি, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এবং চালকদের অসচেতনতা দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানো এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের ঘাটতি মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ, নিয়মিত সড়ক তদারকি এবং মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।