অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এক বিশেষ ও নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযানে ৫১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের অংশ হিসেবে পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে রাজধানীর সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে মোট ৪৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সময়ে অপরাধীদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
রবিবার (১৬ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ডিএমপির প্রদত্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মহানগরীর আটটি অপরাধ বিভাগ এবং গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছে মিরপুর বিভাগ থেকে, যেখানে মোট ১২৬ জনকে আটক করা হয়। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩৯ জন, লালবাগ বিভাগে ৩৩ জন, ওয়ারী বিভাগে ৫১ জন, মতিঝিল বিভাগে ৬২ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৭২ জন, গুলশান বিভাগে ৫০ জন এবং উত্তরা বিভাগে ৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ অভিযানে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সন্দেহভাজন ১১ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে ২টি বিদেশি পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন এবং ১৫ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। একই সাথে মাদকবিরোধী বিশেষ তল্লাশিতে জব্দ করা হয় ১ হাজার ৪০৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৯৮ কেজি ৫৬৫ গ্রাম গাঁজা, ১ গ্রাম হেরোইন এবং ৪ বোতল বিদেশি মদ। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এবং এসব মাদক রাজধানীজুড়ে বিভিন্ন চক্রের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।
অস্ত্র ও মাদকের পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও জালিয়াতিতে ব্যবহৃত বেশ কিছু ইলেকট্রনিক ও ব্যাংকিং সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১টি কম্পিউটার, ৬টি মোবাইল ফোন সেট, বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটরের ৮০টি সক্রিয় সিম কার্ড এবং ৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের এটিএম কার্ড। উদ্ধারকৃত এসব প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও ব্যাংকিং কার্ড দিয়ে সংঘবদ্ধ কোনো প্রতারক বা অপরাধী চক্র আর্থিক জালিয়াতি কিংবা সাইবার অপরাধে জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলো।
ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী, পেশাদার অপরাধী, মাদক কারবারি ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের অতীত অপরাধের রেকর্ড যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং দায়েরকৃত ৪৯টি মামলায় সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ ও বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নগরীর শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জননিরাপত্তামূলক এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।