অপরাধ ডেস্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর একটি বিশেষ টহল দল অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে। রবিবার (১৬ আগস্ট) ভোরে উপজেলার নোয়াবাদী এলাকা থেকে পাচারের সময় ৯৫৮ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িত চোরাকারবারিরা মালামাল ফেলে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার ভোররাতে বিজিবি ২৫ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন একটি নিয়মিত টহল দল বিজয়নগর উপজেলার সীমান্তবর্তী নোয়াবাদী এলাকায় অবস্থান নেয়। ভোরের দিকে আট থেকে নয়জন ব্যক্তির একটি দলকে মাথায় বস্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করে ভারত থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বিজিবির জওয়ানরা তাদের থামার নির্দেশ দেন এবং ধাওয়া করেন।
টহল দলের উপস্থিতি ও ধাওয়া খেয়ে চোরাকারবারিরা তাদের সঙ্গে থাকা মালামালের বস্তাগুলো ফেলে দ্রুত ঘন ঝোপঝাড় ও অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সীমান্তের ওপারে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ফেলে যাওয়া আটটি চটের বস্তা উদ্ধার করা হয়। বস্তাগুলো খুলে গণনা শেষে মোট ৯৫৮ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে বিজিবি ২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মাদক প্রবেশের গোপন খবরের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যরা কৌশলগত অবস্থান নেন। পাচারকারীরা বিজিবির তৎপরতা টের পেয়ে মালামাল ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যগুলোর বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তীতে এসব মাদক ধ্বংস করার জন্য ব্যাটালিয়ন সদরে জমা রাখার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সীমান্তবর্তী জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর ও আখাউড়া উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাচালানের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এবং সীমান্তবর্তী দুর্গম গ্রামীণ এলাকা হওয়ায় চোরাচালানকারী চক্রগুলো প্রায়ই নানা কৌশলে এস্কাফ, ফেনসিডিল, গাঁজা ও ইয়াবার মতো ক্ষতিকর মাদক দেশে প্রবেশের অপচেষ্টা চালায়। কোডিনযুক্ত এসব তরল সিরাপ তরুণ প্রজন্মকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ঠেলে দেয়।
সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কটি নির্মূল করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায় থেকে মাদক চক্রের মূল হোতা ও বিতরণকারীদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির আওতায় না আনা গেলে এ ধরনের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা কঠিন। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বিজিবির এ ধরনের গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।