বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর তিনি মন্ত্রিত্ব এবং দলীয় মহাসচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের শীর্ষ নেতাদের এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য গণমাধ্যমকে জানান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই এই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদে বিজয়ী হলে সংসদ সচিবালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তার ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী এই নির্বাচনে সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষেই আইনপ্রণেতারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি বামপন্থী ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ১৯৯০-এর দশকে বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন সময়ে সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। ২০১১ সালে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ার পর ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে দলের পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হন। বিগত বছরগুলোতে দলের ক্রান্তিলগ্নে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় রাজনীতিতে বর্তমান সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এবং বিরোধী দলগুলোর সমঝোতা কিংবা একক প্রার্থী ঘোষণার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বড় ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ সীমিত। ফলে সাংবিধানিক এই শীর্ষ পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্থলাভিষিক্ত হওয়া প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।