1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৫৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারে ট্রাম্পের সঙ্গে আলবানিজের ফলপ্রসূ আলোচনা দক্ষিণ সুদান ও আবেই সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সীমান্তে মাদক চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ রোধে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর যৌথ সামরিক মহড়া নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে যুক্ত হচ্ছে আরও ৫০০ শয্যা, কাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে যানজট নিরসনে অঞ্চলভিত্তিক রিকশা চলাচলের উদ্যোগ, আসছে সমন্বিত নীতিমালা পুলিশের ৪৯ পরিদর্শককে অবসরে পাঠাল সরকার রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর উদ্যোগ, কমছে ট্রেনের বিরতিও প্রশাসনে আবারও রদবদল: ৭ কর্মকর্তার বদলি, পদায়ন ও প্রত্যাহার দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর, ২২ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা শিশু রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে

দক্ষিণ সুদান ও আবেই সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন পরিদর্শন শেষে পাঁচ দিনের সরকারি সফর সমাপ্ত করে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সফরকালে তিনি দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত ‘ইউনাইটেড নেশনস মিশন ইন সাউথ সুদান’ (ইউএনমিস) এবং সুদান ও দক্ষিণ সুদানের সীমান্তবর্তী বিতর্কিত আবেই অঞ্চলে মোতায়েনরত ‘ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারিম সিকিউরিটি ফোর্স ফর আবেই’ (ইউনিসফা)-এ দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
সফরসূচির অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী প্রধান দক্ষিণ সুদানে মোতায়েনরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোম্পানি, পদাতিক ব্যাটালিয়ন এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফোর্স মেরিন ইউনিট পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি তিনি আবেই অঞ্চলে অবস্থানরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক ব্যাটালিয়নের কার্যক্রমও সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন। পরিদর্শনকালে তিনি মিশনের বিভিন্ন পদবীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের পেশাগত দক্ষতা ও আভিযানিক প্রস্তুতির খোঁজখবর নেন।
শান্তিরক্ষীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রতিকূল ও সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে অত্যন্ত পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি উভয় মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি স্টাফ অফিসার, সামরিক পর্যবেক্ষক এবং বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে মিশনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ ও অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে শান্তিরক্ষীদের আন্তরিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন সেনাপ্রধান।
সফরকালে সেনাবাহিনী প্রধান বৈশ্বিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। তিনি ইউএনমিস-এর ফোর্স কমান্ডার মেজর জেনারেল জুনহুই উ এবং ইউনিসফা-এর ফোর্স কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল গণেশ কুমার শ্রেষ্ঠর সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন। এসব বৈঠকে মিশন এলাকার নিরাপত্তা ঝুঁকি, শান্তিরক্ষীদের সুরক্ষাব্যবস্থা, বর্তমান লজিস্টিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ অভিযানিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া সেনাপ্রধান আবেই অঞ্চলে নিয়োজিত মিশন লিডারশিপ টিম এবং সুদান ও দক্ষিণ সুদানের ন্যাশনাল মনিটরদের সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। বৈঠকে আবেই অঞ্চলের বিবদমান পরিস্থিতির টেকসই সমাধান, সীমান্ত নিরাপত্তা তদারকি এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে শান্তিরক্ষীদের কার্যকরী ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
সামরিক কূটনীতির অংশ হিসেবে সেনাপ্রধান দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবায় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী চল থন বালোক এবং প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রধান জেনারেল সান্টিনো ডেং ওলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার, প্রশিক্ষণ বিনিময় এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় দক্ষিণ সুদান প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানকে ঐতিহ্যবাহী সামরিক কায়দায় সুসজ্জিত গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বিশেষ করে আফ্রিকা মহাদেশের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ ও অবদান আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত।
বিশ্লেষকদের মতে, সেনাপ্রধানের এই সফর মিশন এলাকায় অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে কর্মরত শান্তিরক্ষীদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। একইসঙ্গে এই সফর জাতিসংঘ সদর দফতর ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে, যা ভবিষ্যতে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নতুন দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে কৌশলগত ভূমিকা পালন করবে।
s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026